নতুন জায়গায় দুই পুরনো প্রতিপক্ষ
- বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে ৬ বছর পর, সর্বশেষ খেলেছিল ২০১৯-এ
- ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে আফগানিস্তান ৮, বাংলাদেশ ৯ আর জিম্বাবুয়ে আছে ১১ নম্বরে
- ২২ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ ও আফগানদের জয় সমান ১১টি করে
- ৮৪ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ জিতেছে ৫২টি আর জিম্বাবুয়ে ৩২টি

দ্বৈরথের মঞ্চটা নতুন, তবে পক্ষ দুটিই পুরনো। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে একে অন্যের মুখোমুখি হয়েছে বহুবার। দুই দেশের মুদ্রার মান শুধুই কমছে, বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকার শীর্ষ দশে আছে দুই দেশেরই রাজধানী। এতগুলো মিলের পাশাপাশি আরেকটা বড় মিল হচ্ছে, বাংলাদেশ তিন সংস্করণের ক্রিকেট মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আর খুব স্বাভাবিকভাবেই জিম্বাবুয়েরও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ বাংলাদেশেরই বিপক্ষে।
তাই এ দুই দলের ভেতর ৮৫তম ওয়ানডে মাঠে গড়ানোর আগে নতুন কিছু বের করা খুব কঠিন। ৫২ বার জিতেছে বাংলাদেশ আর ৩২ বার জিম্বাবুয়ে, যদিও প্রথম জয়ের দেখা পাওয়ার আগে বাংলাদেশকে হারতে হয়েছে ১০টি ওয়ানডে, তবে সবশেষ দুটি সিরিজে জিম্বাবুয়েই জিতেছে বেশি। ২০২২ এবং ২০২৬, দুই সফরেই ওয়ানডে সিরিজ জিম্বাবুয়ে জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। অথচ ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা ১৯টি ওয়ানডে জিতেছিল বাংলাদেশ! তাই বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে এসে সেই একচ্ছত্র আধিপত্য কিছুটা খর্ব হয়েছে লাল-সবুজের।
বারবার দেখায় জীর্ণ হয়ে যাওয়া সম্পর্কেও কিছুটা বৈচিত্র্য থাকে! এবারও যেমন আছে। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বাংলাদেশ আর জিম্বাবুয়ের দেখা হয়েছে মাত্র তিনবার, কেনিয়ার নাইরোবিতে দুবার আর ভারতের জয়পুরে একবার। সবশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাছাই পর্বে, এরপর আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে।
আসছে বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের স্বাগতিকদের একটি দেশ জিম্বাবুয়ে, তাদের স্বপ্নও তাই অনেক। সেই স্বপ্নের পেছনে তাদের প্রচুর পরিশ্রমও দৃশ্যমান। এই সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে জিম্বাবুয়ে। তিনটি ম্যাচ হারলেও লড়াই করেছে চোখে চোখ রেখে, শেষ ম্যাচে তো ১ উইকেটে হেরেছে কপালদোষে। এক মাস আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়া, অর্থাৎ ওয়ানডে বিশ্বকাপের অন্য দুই স্বাগতিকদের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছে জিম্বাবুয়ে। তাই বলা যায়, প্রস্তুতির খুব একটা ঘাটতি নেই, যা আছে সামর্থ্যে। চল্লিশোর্ধ ব্রেন্ডন টেলর, ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজারাই এখনো হাল ধরছেন জিম্বাবুয়ে দলের। তরুণরা যারা ভালো করেন, তারা সুযোগ পেলেই তো চলে যান কাউন্টি খেলতে বা ভিনদেশের হয়ে খেলতে। বেন কারানের ভাই স্যাম কারান খেলেন ইংল্যান্ডের হয়ে, কাইল জার্ভিস বেছে নিয়েছেন ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে খেলা, বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে পড়তে গিয়ে স্কুল ক্রিকেটে হইচই ফেলে দেওয়া কেন্টের তাওয়ান্ডা মুয়েয়ে জিম্বাবুয়ের বদলে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া ইংল্যান্ডের হয়েই খেলতে চান।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এসব সমস্যা নেই। সমস্যা আছে, তবে সেটা অন্য মাত্রার। বারবার অধিনায়ক বদল, দলে একাধিক সাবেক অধিনায়কের উপস্থিতি, একঝাঁক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের দ্রুত সাবেক হয়ে যাওয়া জনিত শূন্যতা এবং লম্বা সময় ধরে দেশের মাটিতে ভালো উইকেটে খেলতে না পারায় ব্যাটিংয়ে অপূর্ণতা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ, জিতেছে ৭ ম্যাচে আর হেরেছে ১২ ম্যাচে। এটুকু পড়লে মনে হবে পরিসংখ্যান বেশ ভালো বাংলাদেশের। তবে গোমর ফাঁস হবে প্রতিপক্ষকে দেখলে। আইপিএল আর পিএসএলের সময়ে চলা দুটি সিরিজে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড যে দুটি দল পাঠিয়েছিল, তাদের অনেকেই হয়তো ভবিষ্যতে আর কখনো জাতীয় দলের হয়েই খেলবেন না! সবগুলো ম্যাচই হয়েছিল মিরপুরে, দেশের বাইরে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজটা হেরেছে বাংলাদেশ।
১১ জুলাইয়ের পর কোনো ওয়ানডে খেলেনি বাংলাদেশ। সাদা বলে সবশেষ যে দুটি ম্যাচ লিটনরা খেলেছেন, সেটা টি-টোয়েন্টি এবং এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের পর শ্রীলঙ্কার রীতিমতো ‘বি’ দলের কাছে বড় হার। সব মিলিয়ে তাই আশাবাদী হওয়ার মতো খুব একটা উপকরণ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা প্রায়ই একটা কথা বলেন, ‘দিনটা যদি আমাদের হয়’। আবুধাবিতে আজ দিনটা যদি বাংলাদেশের হয়, ছন্দে থাকা তানজিদ তামিম আর লিটন দাসের সঙ্গে তাওহীদ হৃদয়ের একটা ভালো ইনিংস আর বল হাতে হোবার্ট হারিকেনসে ফেরাটা নিশ্চিত হওয়া রিশাদ হোসেন ও আইএল টি-টোয়েন্টি খেলে খেলে এখানকার কন্ডিশন মুখস্ত করে ফেলা মোস্তাফিজুর রহমান যদি উইকেটগুলো তুলতে পারেন নিয়মিত বিরতিতে, তাহলে বাংলাদেশকে জিততে দেখা সম্ভব। আর সেটা না হলে অজুহাত তো তৈরিই আছে!




