অধিনায়ক নাজমুল
বাংলাদেশ এখন বড় দলের মতো দাপট দেখিয়ে জেতে

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
টেস্ট মানেই উত্থান-পতনের খেলা। কখনো চালকের আসনে তো কখনো আবার ব্যাকফুটে। সাফল্য পেতে লেগে থাকতে হয়। সেই সফল হওয়ার টোটকা শিখে ফেলেছে বাংলাদেশ। কোনো সেশনে পিছিয়ে পড়লেও সেটা তারা কাটিয়ে উঠতে পারে। নাজমুল হোসেন শান্ত তাই বলেই দিয়েছেন, বড় দলগুলোই এভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বাংলাদেশ বড় দল হয়ে উঠেছে, অধিনায়কের কথার মানে তো এটাই দাঁড়ায়।
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে প্রথমবার টেস্ট সিরিজে হারানোর আনন্দটা তো কম না! সেই মাহেন্দ্রক্ষণ যে পঞ্চম দিন শুরুতেই আসবে, এটাই ধরে রেখেছিল সবাই। কিন্তু রিজওয়ান-সাজিদ জুটির কারণে অপেক্ষাটা সামান্য বেড়েছে। অবশেষে তাইজুল ইসলাম জুটি ভাঙতে বাংলাদেশ দলে ফিরল স্বস্তি।
অপেক্ষার ওই এক ঘণ্টা কীভাবে কাটিয়েছে বাংলাদেশ? শান্ত জানিয়েছেন, ‘এই এক ঘণ্টার আবেগ ব্যাখ্যা মুশকিল। কারণ, আমরা একটু চাপে পড়েছিলাম। একটা জিনিস বলতে পারি, আগের টেস্টগুলো থেকে এই জিনিসটা আমরা শিখেছি। এমন অবস্থায় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, প্যানিকড না হওয়া – এগুলো...। বড় দলগুলো যেমন করে, ওরা এই পরিস্থিতিতে প্যানিকড হয় না। আমাদের আরও একটু উন্নতির দরকার আছে।’
মিরপুর টেস্টে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরি আর মোহাম্মদ আব্বাসের পাঁচ উইকেট এক পাশে সরিয়ে রাখলে বাংলাদেশের বিপক্ষে পুরো সিরিজে পাকিস্তানকে খুঁজেও পাওয়া যাবে না। টেস্টে একদিনের কোন দল কোন সেশন জিতল, সেটারও একটা হিসেব হয়। সেখানেও লাল-সবুজ বাহিনীর ধারেকাছেও নেই পাকিস্তান। নিজেদের চেয়ে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা কোনো দলকে এমন দাপট দেখিয়ে হারানোর সাফল্য এবারই প্রথম বাংলাদেশের।
এই সাফল্যের আবেগ অন্যদের মতো ছুঁয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তকেও, ‘অবশ্যই প্রত্যেকটা টেস্ট ম্যাচই জিততে পারলে ভালো লাগে। তার মধ্যে যদি এরকম ডমিনেট (দাপট দেখিয়ে) করে এরকম ভালো একটা দলের বিপক্ষে যদি জিততে পারি অবশ্যই এটা গর্বের ব্যাপার। প্রতিটা ক্রিকেটার অনেক পরিশ্রম করেছে। আমাদের প্রস্তুতিও ওই রকম ছিল যে সিরিজ জিতব। কিছু ক্রিকেটার হয়তো পারেনি। কিন্তু দল হিসেবে চিন্তা ছিল কীভাবে সিরিজ জিততে পারি। ওই জায়গা থেকে আমি বলব যে সবার কষ্ট বিফলে যায়নি।’






