অবসর
১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ম্যাক্সওয়েল

১৪ বছরের দীর্ঘ ও রঙিন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা অল-রাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। মঙ্গলবার ‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’ পডকাস্টে ৩৮ বছর বয়সী এই অজি ক্রিকেটার আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ভিক্টোরিয়ার হয়ে ৫০ ওভারের ঘরোয়া ক্রিকেট এবং চার দিনের ম্যাচ থেকেও অবসর নিয়েছেন। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ও বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টারসের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন।
‘দ্য বিগ শো’ নামে পরিচিত ম্যাক্সওয়েলের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০১২ সালে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭টি টেস্ট, ১৪৯টি ওয়ানডে এবং ১৩০টি টি-টোয়েন্টিসহ মোট ২৮৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৭,২২৬ রান সংগ্রহের পাশাপাশি শিকার করেছেন ১৩৬টি উইকেট। ২০১৫ ও ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম মূল কাণ্ডারি ছিলেন এই মারকুটে অলরাউন্ডার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ম্যাক্সওয়েলের সংগ্রহ ২,৮৯৭ রান। এই ফরম্যাটে ৫টি সেঞ্চুরি করে ভারতীয় তারকা রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটিই হয়ে থাকল তার ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
ম্যাক্সওয়েলের ১৪ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি এসেছিল ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ২৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া যখন ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে, তখন তীব্র পেশির টান ও শারীরিক যন্ত্রণা উপেক্ষা করে ১২৮ বলে ২০১ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন তিনি। ২১টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো অপরাজিত সেই ইনিংসটি ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়। অবসরের প্রতিক্রিয়ায় ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে মাঠে নামা, দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয় এবং দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই দলের প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতি ছিল অবিশ্বাস্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতিটি মুহূর্ত আমি দারুণভাবে উপভোগ করেছি। আমার শরীরের সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং খেলার মাঠে প্রতিযোগিতামূলক থাকার জন্য শরীরের ওপর বাড়তি চাপ কমানো এখন অত্যন্ত জরুরি। সামনের বছরগুলোতে শারীরিক সক্ষমতা বজায় রেখেই আমি মাঠে নিজের সেরাটা দিতে চাই।’
একইসঙ্গে ঘরোয়া লংগার ভার্সন ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ সংস্করণের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি আমার জন্য অত্যন্ত আবেগঘন ছিল। বিশেষ করে ভিক্টোরিয়ার সতীর্থদের যখন এই সিদ্ধান্তের কথা জানালাম, মুহূর্তটি আমার হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করেছে। তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে এবং আগামী দুই বছরের জন্য দলের রূপরেখা কোন দিকে এগোচ্ছে, তা আমি সম্পূর্ণ বুঝতে পারছি।’





