সুযোগ নষ্টের আফসোস
- তানজিদ ডারউইনে ফেলেছিলেন স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ। জীবন পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন তিনি
- আফগানিস্তানের বিপক্ষে রহমত শাহর ক্যাচ ফেলেন তানজিদ। জীবন পেয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেন এই ব্যাটার

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার সেরা ব্যাটার স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। স্মিথের রান তখন ২, পরে স্মিথ করলেন ৭১। ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দলে ভালো করে টেস্টেও জায়গা করে নিয়েছেন তানজিদ তামিম, রান করার পাশাপাশি ক্যাচও ছাড়ছেন নিয়মিত। ডারউইনে স্মিথের ক্যাচ ছেড়েছেন, আবুধাবিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ছেড়েছেন রহমত শাহর ক্যাচ। রহমতের রান তখন ১৬। জীবন পেয়ে রহমত আউট হয়েছেন ৫১ রান করে।
তানজিদ ক্যাচটা নিলে আফগানিস্তানের রান হতো ৫৩/৩, সেখানে তৃতীয় উইকেটে রহমত আর সেদিকুল্লাহ আতাল যোগ করলেন ৮২ রান। আতাল যখন ৭০ রানে, তখন তাইজুল ইসলামের বলে তাকে স্টাম্পড করতে ব্যর্থ হন লিটন দাস, এই টেস্টে ৯টি ডিসমিসাল করে বিশ্বরেকর্ড গড়লেও লিটনের এই একটা ভুলই হয়ে গেছে হারজিতের ব্যবধান। তখন আতালের রান ৭০, খেলেছেন ২৩৪ বল। এরপর আতাল আরও ৯৮ বল খেলেছেন, করেছেন আরও ৪১ রান, ৩৩২ বল খেলে ১১১ করে আউট হয়েছেন। কায়েস আহমেদের ক্যাচ ফেলেছেন হাসান মাহমুদ, দুটি রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন নাঈম হাসান।
প্রচলিত একটা ধারণা আছে যে বয়স্ক ক্রিকেটাররা ফিল্ডিংয়ে একটু পিছিয়ে থাকেন। তবে বাংলাদেশ দলে তরুণ থেকে অভিজ্ঞ, সবাই ক্যাচ ছাড়েন অবলীলায়। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের খণ্ডকালীল ফিল্ডিং কোচ রাজিন সালেহ মনে করেন, সমস্যাটা আসলে দলীয় সংস্কৃতির। বাংলাদেশ দলে ফিল্ডিং দক্ষতা নিয়ে আসলে খুব একটা বাড়তি আগ্রহ নেই, ‘ব্যাটিং ও বোলিংয়ের মতোই ফিল্ডিংও একটা বিশেষ দক্ষতা। এই দক্ষতা অর্জনের জন্য আলাদা সময় দিতে হয়। অনুশীলন করতে হয়। দলে একজন ফিল্ডিং কোচ থাকেন, তিনি তার মতো করে কিছু অনুশীলন করান, আমাদের ক্রিকেটারদের ফিল্ডিং অনুশীলন এই পর্যন্তই। ফিল্ডিং ভালো করার জন্য নিজে নিজে চেষ্টা করা, অনুশীলন করা, মাঠে নামার আগে নিজেকে প্রস্তুত করা, মনোযোগ ধরে রাখার জন্য বিশেষ কিছু অনুশীলন ও কৌশলের চর্চা করা— এসব নিয়ে বেশিরভাগ ক্রিকেটারেরই বাড়তি আগ্রহ বা মনোযোগ নেই।’ বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে স্রেফ ফিল্ডিং দক্ষতার জোরেই দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে জায়গা পেয়েছিলেন রাজিন, দারুণ ক্যাচে বিদায় করেছিলেন শচীন টেন্ডুলকারের মতো কিংবদন্তিকে। আগামীর সময়কে রাজিন বললেন, ‘ফিল্ডিং আসলে একটা দলীয় সংস্কৃতির অংশ। দক্ষিণ আফ্রিকা সবসময় ফিল্ডিংকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে, শ্রীলঙ্কা এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে সবসময় উঁচু মানের ফিল্ডিং দল। তাদের দলীয় সংস্কৃতির মধ্যেই ফিল্ডিংয়ের চর্চাটা আছে। বাংলাদেশে এটা অনুপস্থিত। এখানে ক্যাচ মিসকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না, অথচ একটা ম্যাচ হারিয়ে দেওয়ার জন্য একটা ক্যাচ মিসই যথেষ্ট। সেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমরা অনেক সুযোগ নষ্ট করেছি।’
তানজিদ তামিমের নিয়মিতই ক্যাচ ছাড়ার ব্যাপারে রাজিনের অভিমত, ‘ভালো ফিল্ডারেরও ক্যাচ মিস হতে পারে। আমিও যখন খেলেছি, তখন আমারও হয়েছে। তবে সেটারও একটা অনুপাত আছে। নিয়মিত যদি কেউ ক্যাচ ফেলে, তাহলে তার মনোযোগ বা কৌশল কোথাও এক জায়গায় ঘাটতি আছে। সেই ঘাটতি দূর করার প্রচেষ্টা খেলোয়াড়কেই নিতে হবে।’ সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, দলের সংস্কৃতি বদল করার প্রয়োজনীয়তা, ‘ক্যাচ মিসকে অনেক সময়ই খেলার অংশ বলে হালকাভাবে নেওয়ার প্রবণতা আছে। খেলতে গেলে ক্যাচ মিস হবেই, কিন্তু কতটা? একটা ম্যাচে প্রতিপক্ষকে যদি আমরা এতগুলো সুযোগ দিই (আবুধাবি টেস্টে), তাহলে কি আমরা জিততে পারব।’ আমি যখন কোচিং করাই, তখন আমি একটা কথা সবসময় বলি এবং বোর্ডেও লিখে রাখি, কথাটা হচ্ছে— ভালো ফিল্ডিং না হলে ভালো বলের মূল্য নেই। অর্থাৎ একটা বোলারের ভালো বলও মূল্যহীন হয়ে যায়, যদি ফিল্ডিং ভালো না হয়।’



