বিসিবিতে তিন মন্ত্রীপুত্র, আইসিসিতেও তাই

বাঁ থেকে ইসরাফিল খসরু, ইয়াসির আব্বাস, রাশনা ইমাম ও সাঈদ ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলার সঙ্গে নাকি রাজনীতি মেলাতে নেই। বাস্তবতা হচ্ছে রাজনীতিই এখন মিশে গেছে খেলার সঙ্গে। বিশেষ করে উপমহাদেশের ক্রিকেটে। টেস্ট খেলা এই অঞ্চলের চার দেশের ক্রিকেট বোর্ডই গড়া রাজনৈতিক বলয়ে। বিসিবিও এর বাইরে নয়।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড ভেঙে ১১ সদস্যের যে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানেও যথারীতি রাজনীতির প্রভাব। এই সদস্যদের তিনজন মন্ত্রীপুত্র আরেকজন মন্ত্রীর স্ত্রী। কমিটিতে আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের ছেলে ইসরাফিল খসরু।
আরও আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রী পদমর্যাদার রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী আইনজীবী রাশনা ইমাম।
এজন্যই আজ কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ অধিবেশনে বিসিবিকে বলেছেন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এখানে কোনো বাপের দোয়া মায়ের দোয়া করি নাই। এত দিন পর্যন্ত শুনতাম মায়ের দোয়া পরিবহন আছে। আজ মাননীয় সদস্যের কল্যাণে দেখলাম বাপের দোয়া কমিটিও আছে।’ অ্যাডহক কমিটিতে তার ছেলেও যে আছেন, সেটা অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেননি।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ এখন আইসিসির প্রধান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ছাড়িয়ে একটু উপমহাদেশের ক্রিকেটে নজর দেওয়া যাক। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০১৯ ও ২০২২ সালে। ভারতীয় বোর্ড আইসিসিতে প্রভাবশালী। আর এজন্যই বিসিসিআই থেকে ২০২৪ সালে আইসিসির চেয়ারম্যানও হয়ে যান জয় শাহ। তার বাবা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না হলে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তার আইসিসির মসনদে বসার কথা না।
পাকিস্তানে অবশ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছেলে নয়, খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিই দায়িত্ব পালন করছেন পিসিবি চেয়ারম্যানের। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডে সাবেক অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গাও হয়েছিলেন সংস্থাটির সভাপতি। তবে সেটা সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে নয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হওয়ার পর।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও শুরু থেকে ঘুরপাঁক খাচ্ছে রাজনৈতিক বলয়ে। ২০১২ সাল পর্যন্ত সরকার মনোনীত সভাপতি ছিলেন ক্রিকেট বোর্ডে। নাজমুল হাসান পাপন বিসিবিতে এসেছিলেন ২০১২ সালে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমেই। এরপর তিনি নির্বাচন করে সভাপতি হয়েছেন। তবে তাতে রাজনীতির এতটাই প্রভাব ছিল যে পাপনের প্রতিদ্বন্দ্বীই থাকতেন না কেউ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলেও বিসিবি রয়ে গেছে সেই রাজনৈতিক বলয়ে। তাই অ্যাডহক কমিটিতে এসেছেন তিন মন্ত্রীপুত্র আর একজন মন্ত্রীর স্ত্রী। মন্ত্রী পুত্রদের যে একেবারে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টতা নেই তাও নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ বিসিবির গত নির্বাচনে তিনি ছিলেন ফেয়ার ফাইটার্স ক্লাবের কাউন্সিলর। পরে তামিম ইকবালের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের ছেলে ইসরাফিল খসরু ছিলেন এক্সিউম ক্রিকেটার্সের কাউন্সিলর আর মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস ছিলেন আজাদ স্পোর্টিংয়ের কাউন্সিলর। তামিমের সঙ্গে তারাও অংশ নেননি গত নির্বাচনে।
ববি হাজ্জাজের স্ত্রী রাশনা ইমাম অ্যাডহক কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। ক্রীড়াঙ্গনে নারীর অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে রাশনা ইমামের অন্তর্ভুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ। এই ১১ সদস্যের অনেককেই দেখা যেতে পারে ৯০ দিনের মধ্যে হতে যাওয়া বিসিবির নির্বাচনেও। সেই নির্বাচনে মন্ত্রীপুত্ররা থাকেন কিনা সেটাই দেখার।
















