দেশের মাটিতে প্রথম টেস্টে হৃদয় কেমন করলেন?

দেশের মাটিতে প্রথম টেস্টে প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হৃদয়। ছবি: মোশারফ হোসেন
টেস্টে মুশফিকুর রহিমের পর মিডল অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটিতে তাওহীদ হৃদয়কে ভাবছে বাংলাদেশ। তবে দেশের মাটিতে নিজের প্রথম টেস্টে সেই আস্থার পুরো প্রতিদান দিতে পারেননি এই ব্যাটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪২ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ২ বলে শূন্য রানে আউট হয়েছেন হৃদয়। তার শট নির্বাচনও ছিল দৃষ্টিকটু।
তবে চার ইনিংসের পারফরম্যান্স দিয়ে হৃদয়কে বিচার করতে রাজি নন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করার সামর্থ্য হৃদয়ের আছে।
অধিনায়ক জানিয়েছেন, ‘হৃদয়ের আউট বা শট সিলেকশন নিয়ে বলব, একেকজনের খেলা একেক রকম। কিন্তু আমি এই চার ইনিংসে কোনো ব্যাটসম্যানকেই জাজ করতে চাই না এবং আমাদের কারোরই করা উচিত না। আমরা সবাই জানি ও কতটা সামর্থ্যবান এবং কত ভালো ব্যাটসম্যান।’
শান্ত মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাদা বলের ক্রিকেটে তো বটেই, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও হৃদয়ের বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য আছে। আন্তর্জাতিক টেস্টে এখনো মাত্র চার ইনিংস ব্যাট করেছেন তিনি। তাই আরও সময় ও ধৈর্য দরকার এই ব্যাটারের, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র চারটা ইনিংস ব্যাটিং করেছে। আমার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে যে ও খুব ভালোভাবেই ফিরবে এবং বড় ইনিংস খেলবে। পুরোপুরি বিশ্বাস আছে আমার।’
হৃদয়ের দ্বিতীয় ইনিংসের আউট নিয়ে অবশ্য খুব একটা অবাক হননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের রস্টন চেজ। বাংলাদেশি ব্যাটারের আক্রমণাত্মক মানসিকতার সঙ্গে পরিচিত তিনি। বিপিএলে হৃদয়ের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আছে চেজের। সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে হৃদয়কে চিনি। বিপিএলে তার সঙ্গে খেলেছি। আমি জানি, সে খুবই আগ্রাসী ব্যাটসম্যান এবং কাউন্টার-অ্যাটাক করতে পছন্দ করে। তাই সে যদি আক্রমণাত্মক হতে চায়, আমি তাকে সেটা করতে দেব।’
তবে পরিস্থিতি বুঝে সেই আগ্রাসন দেখানোর পরামর্শও যেন দিয়েছেন চেজ, ‘সে যদি চাপে থাকা অবস্থায় আমাদের আক্রমণ করতে চায়, সেটা তার ব্যাপার। যদি সেটা কাজে লাগে, তাহলে ভালো। কিন্তু তাকে দেখাতে হবে যে সে সেটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে এবং আত্মবিশ্বাসী।’
হৃদয়ের শট নিয়ে তাই চেজের বিস্ময় ছিল না, ‘শটটায় আমি অবাক হইনি, কারণ আমি জানি সে আক্রমণাত্মক খেলতে পছন্দ করে। এবার সেটা কাজে আসেনি।’
হৃদয়ের জন্য তাই দেশের মাটিতে প্রথম টেস্টের শিক্ষা হয়তো এটাই—আগ্রাসনের সঙ্গে পরিস্থিতি বুঝে ধৈর্যও জরুরি। চার ইনিংসেই শেষ কথা বলে দেওয়ার সময় এখনো আসেনি।



