কেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে আইপিএল কাটালেন বুমরা?

ফাইল ছবি
রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে আজ রবিবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের শেষ ম্যাচে একাদশে নেই জসপ্রিত বুমরা। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই যেমন পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকে আইপিএল শেষ করতে যাচ্ছে, তেমনই বিশ্বসেরা এই পেসার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে মৌসুমটি কাটিয়েছেন। এবারের আসরে ১৩ ম্যাচে তার উইকেট মাত্র ৪টি, বোলিং গড় আকাশছোঁয়া ১০২.৫০! কিন্তু বুমরার কেন এই হাল?
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে বুমরার এই অফ-ফর্মের পেছনে বেশ কিছু কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, কোনো একক কারণে নয়, বরং চোটের ধকল, প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক কৌশল এবং অন্য বোলারদের ব্যর্থতার মারপ্যাঁচেই আটকে গেছেন বুমরা। আইপিএলর আগমুহূর্তে শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৪ উইকেট নেওয়া বুমরার ইনজুরি সমস্যাও আছে। আইপিএলে এর আগে কখনই এত খারাপ সময় কাটেনি বুমরার। দলের সেরা পেসারকে নিয়ে জয়াবর্ধনে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পর ওর কিছুটা চোটের সমস্যা ছিল। এ কারণে প্রথম ৪-৫টি ম্যাচে ওর ওয়ার্কলোড কম রেখে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়েছে। চোটের কারণেই শুরুর দিকে ওর বোলিংয়ের গতি কমে গিয়েছিল। চোট সামলে বল করতে গিয়ে তার বোলিংয়ের ধারও কমে গেছে।’
ইনজুরির কারণে বুমরার চেনা রান-আপেও সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এবার তিনি রেকর্ড ৭টি নো-বল করেছেন, যা এই মৌসুমে যেকোনো বোলারের জন্য সর্বোচ্চ। বুমরার উইকেট না পাওয়ার পেছনে প্রতিপক্ষ দলগুলোর ব্যাটিং কৌশলকেও বড় কারণ মনে করছেন জয়াবর্ধনে। অন্যপ্রান্ত থেকে মুম্বাইয়ের বাকি বোলাররা চাপ সৃষ্টি করতে না পারায় প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা বুমরার ওভারে কোনো ঝুঁকিই নেয়নি, যদিও বৈভব সূর্যবংশীর হাতে বেদম মার খেতে হয়েছে তাকে। পরিসংখ্যানও বলছে, বুমরা তার প্রধান অস্ত্র স্লোয়ার (৮২টি) এবং ইয়র্কার (৩১টি) দিয়ে এবার একটি উইকেটও পাননি। উল্টো এই মৌসুমেই তিনি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি ৪৩টি বাউন্ডারি এবং যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২টি ছক্কা হজম করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে একপর্যায়ে বুমরাকে দিয়ে বোলিং উদ্বোধন না করিয়ে ইনিংসের ৫ নম্বর ওভার থেকে বোলিংয়ে আনা হয়েছিল। এতেও কাজ হয়নি।
খারাপ পারফরম্যান্সের পরও বুমরার ইতিবাচক মানসিকতার প্রশংসা করে জয়াবর্ধনে বলেন, ‘বুমরা অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। সে নিজেও জানে যে, সে ফর্মে নেই। সে হাসিমুখে এসে বলত, “কোচ, এই কৌশল কাজে লাগেনি, চলুন অন্য কিছু চেষ্টা করি।” শেষ ৪-৫টি ম্যাচে ও আবার ১৪০-১৪২ কিমি গতিতে বল করেছে এবং চেনা ছন্দে ফিরেছে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের জন্য এই মৌসুমটি শেষ হয়ে গেছে। তবে বুমরাকে নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। সে শক্তিশালীভাবেই কামব্যাক করবে।’








