সেঞ্চুরি হাতছাড়া মুশফিক-শান্তর
- অলক কাপালী ও সোহাগ গাজীর পর টেস্টে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় বাংলাদেশি
- দ্রুততম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে পৌঁছেছেন ৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলকে
- ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন ৪ দেশে— ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও আমিরাত
- হাসান মাহমুদের এই হ্যাটট্রিক টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ৫০তম

হাসান মাহমুদ টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের লিড ৩২৯ রানের। আবুধাবির উইকেটে বল ঘুরতে শুরু করেছে। আজ দিনের শুরুতে মেহেদি হাসান আর লিটন দাস মিলে যদি আরও ৫০টি রান স্কোরবোর্ডে জুড়ে দেন, তাহলে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য আরও একবার আফগানদের অলআউট করে দেওয়াটা একদমই কঠিন নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, স্রেফ একটা জয়ই কি হবে এই টেস্টে বাংলাদেশের প্রাপ্তি?
দুই দলের টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির সময়ের পার্থক্য ১৮ বছর, অভিজ্ঞতার পার্থক্য ১৩১ ম্যাচের। আফগানিস্তান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়, তাই এই ম্যাচে হারজিতটাও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অবস্থানকে নড়চড় করাবে না। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুটি টেস্ট এবং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলতে নামার আগে, নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার এটাই বড় সুযোগ। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে, এই জায়গাটায় এখন পর্যন্ত ব্যর্থতার পরিচয়ই দিয়ে গেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৬ উইকেটের পতন হয়ে গেছে এরই মধ্যে, শীর্ষ ব্যাটাররা প্রত্যেকেই দুই ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে গেছেন। অথচ কেউই সেঞ্চুরির দেখা পাননি। তিনজন ব্যাটার ৮০’র ঘরে উইকেট ছুড়ে দিলেন; প্রথম ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিমের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিম এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই পুরনো রোগই পেয়ে বসল তাদের। দিনের খেলার শেষবেলায় উইকেট হারানো, ইনিংসগুলোকে বড় করতে না পারার আক্ষেপ আর খেলার ধারার বিপরীতে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে বিপদ ডেকে আনার অভ্যাসগুলোই ফের দেখা গেল মাঠে।
মাশরাফী, শাহাদাত ও তাসকিনের পর ৫০ টেস্ট উইকেট নেওয়া চতুর্থ বাংলাদেশি পেসার
শান্তকে তাও দুর্ভাগা বলা চলে। লেগস্পিনার কায়েস আহমেদের দারুণ এক ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত হয়েই ৮২ রানে বিদায় নিতে হয়েছে। বলটা হাওয়ায় ভাসিয়েছিলে কায়েস, শান্ত সামনের পায়ে ভর দিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন, তাতে ব্যাট আর পায়ের মাঝে যে বিস্তর ফাঁক তৈরি হয় বলটা সেদিক দিয়েই ঢুকে ভেঙেছে স্টাম্প। ১৯০ বল খেলে ৮২ রান করার পর আউট হয়ে হতবিহ্বল হয়েই উইকেটে খানিকটা সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন শান্ত, বুঝতে পেরেছেন ভুল সময়েই ফেরার রাস্তা ধরতে হচ্ছে তাকে।
তবে ১০৬ নম্বর টেস্ট খেলতে নামা মুশফিককে কাঠগড়ায় তুলতেই হচ্ছে। মনে হচ্ছিল ১৫ নম্বর টেস্ট সেঞ্চুরিটা পেয়েই যাবেন মুশফিক। কিন্তু জিয়াউর রহমানের নিরীহ গোছের একটি বলে সুইপ করতে গিয়ে গরমিল করে ফেললেন মুশফিক। প্রথমে ভেবেছিলেন অন্যভাবে খেলবেন, একটু দেরিতে সুইপ খেলতে চেষ্টা করলেন। চেয়েছিলেন উইকেটরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে পাঠাবেন। কিন্তু হিসাবে গোলমাল হয়ে বল লোপ্পা হয়ে উঠে গেল ওপরে, স্লিপে সহজ ক্যাচ লুফে নিলেন শহিদুল্লাহ। প্রথম ইনিংসে মুশফিক আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করলে খানিকটা দায়মোচন হতো। কিন্তু দেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ টেস্ট ক্রিকেটার হয়েও যেভাবে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিলেন, তাতে করে ‘অভিজ্ঞতা’ শব্দটার ওপরই অবিশ্বাস জন্মায়।
‘রাতপ্রহরী’ হিসেবে নেমেছিলেন হাসান মাহমুদ, সকালবেলায় হ্যাটট্রিকের আনন্দ খানিকটা মিলিয়ে গেছে ব্যাটিংয়ে ১ রানে আউট হয়ে। সেটাও আবার দিনের শেষ বলের আগের বলে। মুশফিক-শান্ত জুটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ১৫তম ওভার থেকে ৬৫তম ওভার পর্যন্ত খেলে কোনো বিপদ হতে দেননি, রানও আসছিল স্বাভাবিক গতিতে। শেষ ৬টি ওভারে আফগানরা ৩ উইকেট নিতে না পারলে তৃতীয় দিনটি হতে পারত শুধুই বাংলাদেশের।




