বাংলাদেশি পেসারদের অনন্য কীর্তি

পেসারদের গতিতে ভর করে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত
স্পিন সামলানোর প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশে কোনো সফরে বিদেশি দলগুলোর জন্য যা স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশ বাজিমাত করেছে পেসারদের দাপটে। নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদের গতিতেই খেই হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তারা ছিল যেন কিউইদের সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন।
এই সিরিজে বাংলাদেশের পেসাররা নিয়েছেন ২২ উইকেট। কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এটাই সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড বাংলাদেশি পেসারদের। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে ২১ উইকেট ছিল এতদিনের সেরা। এই ২১ উইকেটের ১৩টিই ছিল মোস্তাফিজের। প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি ৬ উইকেট নিয়েছিলেন অভিষেক সিরিজে।
সিরিজে নাহিদ রানা নিয়েছেন ৮ উইকেট। ছবি: সংগৃহীত
এবারের সিরিজে ২২ উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ৫ পেসার। নাহিদ রানা নিয়েছেন ৮ উইকেট। সিরিজ সেরাও হয়েছেন তিনি। মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম নিয়েছেন সমান ৫টি করে উইকেট। তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন ৩ উইকেট। আর পেস বোলিং অলরাউন্ডার সৌম্য সরকার নেন ১ উইকেট।
নিজেদের পেসারদের নিয়ে সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের সন্তুষ্টি,‘আমাদের পেস ইউনিট বেশ কয়েক বছর ধরে খুব ভালো বোলিং করছে। তারা অনেক দিন ধরে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। দেশে ও বিদেশে আমাদের অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে। আমি মনে করি, কোনো দলের যদি একটি ভালো পেস ইউনিট থাকে, তবে খেলার গতিপথ নিশ্চিতভাবেই বদলে যায়।’
তৃতীয় ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। এ নিয়ে ওয়ানডেতে ৬ষ্ঠবার ফাইফার পেলেন মোস্তাফিজ। বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ফাইফার তারই। বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে ফাইফারের রেকর্ডে পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম এবং নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্টকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মোস্তাফিজ।
ওয়াসিম আকরাম, ট্রেন্ট বোল্টকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মোস্তাফিজ। ছবি: সংগৃহীত
৩ জনেরই ৬টি করে ফাইফার। মোস্তাফিজের ষষ্ঠবার পাঁচ উইকেট পেলেন ১১৮তম ইনিংসে। বোল্টের লেগেছে ১১৪ , ওয়াসিম আকরামের লেগেছিল ৩৫১ ইনিংস। এছাড়া মোস্তাফিজের অভিষেকের পর ওয়ানডেতে ৬বার ফাইফার নেননি আর কেউ। বাঁ-হাতি পেসারদের মধ্যে ৯ বার পাঁচ বা বেশি উইকেটের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্কের।
মোস্তাফিজকে প্রশংসায় ভাসালেন মিরাজ,‘ মোস্তাফিজ অসাধারণ বল করেছে। আমরা প্রত্যাশা করি সে সবসময় এভাবেই বল করবে। ও গ্রেট বোলার বাংলাদেশের জন্য। তার অর্জন কেউ ভুলতে পারবে না। এরকম একটা প্লেয়ার থাকলে দলের জন্য সাহায্য হয়। যে কোনো ক্রাইসিস মোমেন্টে আমরা মোস্তাফিজের কথা চিন্তা করি। সে যত ম্যাচ বাংলাদেশকে জিতিয়েছে, টাফ পরিস্থিতিতে। ১০ বছর একসঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি, ওকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি। তাকে দেখলে বোলিংয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়, বিশেষ করে ক্রাইসিস মোমেন্টে।’
মোস্তাফিজ চোট পাওয়ায় হঠাৎ সুযোগ পেয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। তিন ম্যাচে ৫ উইকেট পাওয়া এই পেসারের পারফরম্যান্সেও খুশি মিরাজ,‘অনেক দিন পর এসে ম্যাচ খেলা যে কোনো প্লেয়ারের জন্য কঠিন। অনেক দিন পর যখন ম্যাচ খেলে। প্রায় দেড় বছর পর ওয়ানডে খেলেছে। প্রথম ম্যাচে টসের আগে চোটে পড়ে গিয়েছিল মোস্তাফিজ, এরপর শরিফুল সুযোগ পেয়েছে। এটা একটা প্লেয়ারের জন্য হুট করে খেলা কঠিন। সে যেভাবে মানিয়ে নিয়ে সেই ম্যাচে খেলেছে, খুব ভালো করেছে। ৩ ম্যাচেই ধারাবাহিক ছিল। সবার ভেতর যদি এমন পারফর্ম করতে পারে, ক্ষুধাটা থাকে এটা আমার মনে হয় ভালো।’
আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত যারা র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটে থাকবে, তারাই ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন সরাসরি। মিরাজ মনে করেন বাংলাদেশের পক্ষে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা অসম্ভব কিছু নয়,‘দেখেন অবশ্যই বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করাটা জরুরি। ভালো খেলাটাও জরুরি। প্রসেস হলো ভালো ক্রিকেট খেলা। ম্যাচ ধরে ধরে জিততে যদি পারি, পারফর্ম করতে পারি, সবাই যদি আত্মবিশ্বাসী থাকে, এটা রিচ করা সম্ভব। সেরা নয়ে থাকা, আমার মনে হয় ধারাবাহিক হলে আরও উপরেও যেতে পারি আমরা। এটা বিরাট একটা অর্জন হবে আমাদের জন্য।’



