কিউইদের অচেনা চট্টগ্রামে সাফল্যের খোঁজে বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে অলিখিত ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ড সবশেষ ওয়ানডে খেলেছিল ২০০৮ সালে। ওই সফরের কোনো ক্রিকেটারই বর্তমান দলে নেই। কিউইদের জন্য চট্টগ্রামের মাঠ তাই নতুন। বাংলাদেশের এই সমস্যা নেই, চেনা মাঠে সিরিজ নিশ্চিতের জন্য নামবে তারা। আগামীকাল সিরিজের শেষ ম্যাচটি জিতলে ২-১ ব্যবধানে জয়ের সাফল্য নিয়ে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সাতে উঠবে বাংলাদেশ।
২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকিট মিলবে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকলে। মেহেদী হাসান মিরাজরা এখন ৯ নম্বরে। এমন নয় যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারলেই আটে ওঠার সুযোগ শেষ। আগামী বিশ্বকাপের আগে আরও হোম সিরিজ থাকায় বাংলাদেশের সেরা আটে পা রাখার সম্ভাবনা আছে যথেষ্ট। তবে দ্বিতীয় সারির নিউজিল্যান্ডকে এবার সিরিজ হারিয়ে বিশ্বকাপের পথে এগিয়ে থাকাটা লক্ষ্য বাংলাদেশের।
সিরিজের শেষ ম্যাচে পরেই ব্যাট করতে চাইবে বাংলাদেশ। কারণ চট্টগ্রামে সবশেষ চার ওয়ানডের তিনটিতেই জয় এসেছিল রান তাড়ায়। বাংলাদেশের সেরা ব্যাটিং স্বর্গে রান তাড়ার সুবিধাটা নিতে চাইবেন মিরাজরা। টস ভাগ্যে আগে ব্যাটিংয়ের ‘অফার’ চলে আসলে অবশ্য ভিন্ন অঙ্ক কষতে হবে স্বাগতিকদের।
ভিন্ন অঙ্কটা হলো বড় রান করা। ভেন্যু বদলের সঙ্গে দুই দলের জন্য একটা জায়গায় স্বস্তি এসেছে। মিরপুরে একেক পিচ নিয়ে যেমন আলাদা ভাবতে হয় চট্টগ্রামে সেই দুশ্চিন্তা নেই। সব উইকেটই ব্যাটিং সহায়ক হওয়ায় শুধু বড় রান নিয়েই ভাবতে পারছে দুই দল।
বাংলাদেশ ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জটা এখানেই। মিরপুরে প্রথম ম্যাচে সময়োপযোগী ব্যাটিং করতে না পারায় ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়টিতে তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটি না থাকলে জয় কঠিন ছিল। টপঅর্ডার ব্যর্থ হওয়ায় প্রতি ম্যাচেই বড় স্কোরের পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে জিতরত হলে এই ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই মিরাজদের সামনে।
গত দুই ম্যাচে সময়ের সঙ্গে উইকেট ধীর হয়েছে। চট্টগ্রামে এরকম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় কিউইরা ভালো ব্যাটিং পিচে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারবে। টপঅর্ডারে থাকা তিন অভিজ্ঞ হেনরি নিকোলস, উইল ইয়ং ও টম ল্যাথামরা এ সিরিজে এখনও বড় রান পাননি। চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেন তিনজন।
সিরিজের শেষ ম্যাচে দুই দলের একাদশেই আসতে যাচ্ছে পরিবর্তন। প্রচণ্ড গরমে টানা দুই ম্যাচে ১০ ওভার করে বল করা নাহিদ রানাকে শেষ ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়ার পক্ষে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই সুযোগ পেতে পারেন পেসার তানজিম সাকিব।
এছাড়া ফিট হয়ে ওঠায় মোস্তাফিজুর রহমানও একাদশে ফিরতে পারেন শরিফুল ইসলামের পরিবর্তে। ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তনের সুযোগ অবশ্য নেই। আফিফ হোসেনের জায়গায় সৌম্য সরকারকে ফিরিয়ে একমাত্র পরিবর্তন করা হয়েছিল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে।

