বিসিবির আলোচিত নির্বাচন আজ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আজ। তিনটি ক্যাটাগরিতে ২৩ জন কাউন্সিলর নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালক পদ লাভ করেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনয়ন দেয় দুজনকে। এই ২৫ জন পরিচালক মিলে নির্বাচন করেন সভাপতি ও সহসভাপতি পদে। তবে ভোট হচ্ছে শুধু ক্লাবগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে ১২ পরিচালক পদের জন্যই, যেখানে প্রার্থী ১৬ জন। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি এবং সাবেক খেলোয়াড় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড-সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত।
নির্বাচনের আমেজ বেশি ক্লাব ক্যাটাগরিতে (ক্যাটাগরি ১)। এখানে ১২ পদের জন্য লড়বেন ১৬ জন। অবশ্য এই ১৬ জনের মধ্যে আটজনের জয় একরকম নিশ্চিত। বাকি চার পদের জন্য লড়াই হবে আটজনের। ক্লাব ক্যাটাগরির কাউন্সিলররা নির্বাচন সামনে রেখে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আনন্দমুখর পরিবেশে যেন নির্বাচনের আগেই উদযাপন সেরে ফেললেন তারা!
অনুষ্ঠান শেষে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল, ‘অ্যাডহক কমিটির মূল চ্যালেঞ্জ ছিল নির্বাচন। গত দুই বছরে অনেক কিছু হয়েছে, আমিও অনেক কিছু বলেছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট একটা অশান্তির মধ্যে ছিল। ৭ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে সবকিছু আশা করছি একটা স্থিতিশীল অবস্থায় আসবে। যারাই নির্বাচিত হয়ে আসবেন, তারা দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
বিসিবি জানিয়েছে, এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া দেখতে আইসিসি থেকে দুজন প্রতিনিধি এসেছিলেন। এর আগে ক্রিকেট বোর্ডের সবশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচিত সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড ভেঙে দিয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল নিজেও এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, অথচ বুলবুলের সভাপতি পদে থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কড়া সমালোচনাই করেছিলেন সে সময়ে নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া তামিম।
ঘুরেফিরে সরকার ঘনিষ্ঠরাই ফের আসবেন ক্রিকেট প্রশাসনে, এটিই যেন রীতি। তদন্ত কমিটির কিছু সুপারিশ ছিল নির্বাচনকে স্বচ্ছ করার জন্য। কিন্তু নির্বাচন পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনই আনা হয়নি। থেকে গেছে বিতর্কিত ই-ভোট বা পোস্টাল ভোট।
খুব নাটকীয় কিছু না হলে তামিম ইকবালই হবেন বিসিবির পরবর্তী নির্বাচিত সভাপতি। অ্যাডহক কমিটিকে আইসিসি অনুমোদন দেয় না, তাই আইসিসি বোর্ডে ও আইসিসি বিজনেস করপোরেশনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিত্ব ছিল না বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর। নির্বাচনের মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদেরই পরিচালক হিসেবে বৈধতা আর সঙ্গে সরকারদলীয় আরও কিছু মানুষকে ক্রিকেট প্রশাসনের অংশ করে দিতেই আজকের নির্বাচন।




