ম্যাকাইতে বদলে গেছে বাংলাদেশের ছবিটা

ত্রিকালজ্ঞ ভূশণ্ডির মতোই বাংলাদেশ আর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট রসায়নের ভূত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জুড়ে আছেন হাবিবুল বাশার সুমন। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ যখন প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে পা রেখেছিল, সেই দলের সদস্য ছিলেন বর্তমান প্রধান নির্বাচক। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট হাফসেঞ্চুরির মালিকও তিনি। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ওয়ানডে দলের অধিনায়ক, পরের বছর টেস্টে ফতুল্লায় প্রায় হারিয়ে দেওয়া ম্যাচেও নেতৃত্বের গুরুভার তার কাঁধেই। ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারিয়ে দেওয়ার সময় জাতীয় দলের নির্বাচক আর ২০২৬ সালে ডারউইন জয়ের সময় প্রধান নির্বাচক হিসেবে সফরসঙ্গী। বলা যায় ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকেরই চাক্ষুষ সাক্ষী হাবিবুল। ম্যাকাই থেকে আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ডারউইনে জয়ের পর এতটা সম্মান আর আত্মতৃপ্তি পাননি অতীতের কোনো প্রেক্ষাপটেই।
সুমনের অভিজ্ঞতা বলছে, বাংলাদেশকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিটা বদলে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়ানদের। খেলার মাঠে সাফল্য, ব্যক্তিগত অর্জন সব ছাপিয়ে দেশের মর্যাদাটাই ডারউইনে জয়ের সবচেয়ে বড় পাওয়া, ‘অবশ্যই আমি খুব খুশি, এ আনন্দ প্রকাশের ভাষা আমার নেই। তবে আনন্দের চেয়ে বড় হচ্ছে সম্মান। আমরা পেশাদার ক্রিকেট খেলেছি, হারজিত ছিল, কিন্তু দেশের সম্মান সবচেয়ে বড়। যখন সেই ১৯৮৯ সালে যুব এশিয়া কাপে খেলি, তখনই আমরা শিখেছিলাম যে দেশের সম্মানটা সবচেয়ে আগে। ডারউইনে জিতে আমরা সেই সম্মানটা পেয়েছি।’ বাংলাদেশ থেকে ডারউইনে পৌঁছে খেলা শুরুর আগপর্যন্ত যে দৃষ্টিভঙ্গি স্থানীয় ক্রিকেট দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মীদের চোখে দেখেছেন আর ম্যাকাইতে খেলতে নামার পর যা দেখছেন, তাতে আকাশপাতাল তফাত, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটাই বদলে গেছে, বাংলাদেশ নামটাকেই তারা অনেক সম্মান করছে। এর চেয়ে বেশি আর কিছু চাওয়ার নেই।’
আমরা শিখেছিলাম যে দেশের সম্মানটা সবচেয়ে আগে। ডারউইনে জিতে আমরা সেই সম্মানটা পেয়েছি -হাবিবুল বাশার সুমন
তবে ডারউইনের সেই স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে নেই ক্রিকেটাররা। হাবিবুল জানালেন, তাদের কাছে ডারউইন এখন অতীত, ‘ডারউইন এখন অতীত, ইতিহাস। আমাদের খেলোয়াড়রাও সেই স্মৃতি সেখানেই রেখে এসেছে। আমাদের সামনে আরেকটা টেস্ট, কীভাবে ভালো খেলা যায়, কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়, সবার মাথায় এখন সেই ভাবনা।’
ম্যাকাইর যে মাঠে খেলা হবে, সেই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় এখনো পা পড়েনি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। তবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল ঠিকই অনুশীলন করেছে দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যুতে। অনুশীলনে লম্বা সময় ব্যাটিং করেছেন ম্যাট রেনশ, যাকে প্রায় তিন বছর পর রীতিমতো ‘এসওএস’ টেস্ট দলে ফিরিয়েছেন নির্বাচক জর্জ বেইলিরা। মাইক হাসির টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ৩০ বছর বয়সে, রেনশর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনালগ্নেও বয়সটা প্রায় কাছাকাছি। মিস্টার ক্রিকেট নামে পরিচিত হাসি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে বলেছেন, ‘তার (রেনশ) আক্রমণ এবং রক্ষণের মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে... কয়েক বছর ধরে যেভাবে উইকেট তৈরি করা হচ্ছে, তা নিয়ে বেশ আলোচনা হলেও গত (শেফিল্ড) মৌসুমে তার তিনটি সেঞ্চুরি প্রমাণ করে যে সব ধরনের পরিস্থিতি ও উইকেটে খেলার মতো দক্ষতা তার রয়েছে।’
প্রায় তিন বছর একটা সংস্করণের বাইরে থাকা কাউকে ফিরিয়ে আনার পরের উচ্ছ্বাসটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া কতটা সম্মান করছে বাংলাদেশকে!



