ঘরের মাঠেও বিবর্ণ রিকার্ভ আরচাররা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়া প্রেসিডেন্ট’স চ্যালেঞ্জ কাপ ও জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম মূলত এশিয়ার তরুণ আরচারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের মঞ্চ। এ ধরনের আসরে এশিয়ার সেরাদের খুব একটা অংশ নিতে দেখা যায় না। তবে ঘরের মাঠে শেষ এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ সেরা রিকার্ভ আরচারদের দিয়ে চেয়েছিল সাফল্য পেতে।
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকার পরও বাংলাদেশের আরচাররা হতাশ করেছেন। ছয় ইভেন্টের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের আরচারদের অর্জন একটি করে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক। এর মধ্যে দুটি পদক আবার বাংলাদেশের দুই নারী আরচার পেয়েছেন অন্য দেশের দুজনের সঙ্গে জুটি গড়ে। ছেলেদের এককে রামকৃষ্ণ সাহার রৌপ্য প্রাপ্তিটা হতাশা বাড়িয়েছে।
টঙ্গীতে চার দিনের আয়োজনের শেষ দিনে সকালেই সুসংবাদ দেন সীমা আক্তার শিমু। মিক্সড টিম ইভেন্টে মালয়েশিয়ার এক তিরন্দাজের সঙ্গে জুটি গড়ে জেতেন স্বর্ণপদক। এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জেতে বাংলাদেশের নাসরিন আক্তারের দল। সীমা আক্তার শিমু ও মালয়েশিয়ার বিন নূর মোহাম্মদ দানিশের আজালিয়া দল ৬-০ ব্যবধানে ব্লু বেলকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতে। নাসরিনদের জুটি ব্রোঞ্জ পদক ম্যাচে দাহিলা দলকে হারায়।
ছেলেদের একক ইভেন্টে রামকৃষ্ণ মালয়েশিয়ার আহমেদ ফিতরিকে ৭-১, মোহাম্মদ রিজক আরিফকে ৬-৪ এবং মাহাথির ওয়ান কাইমকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে আসেন। তবে অভিজ্ঞতা ও র্যাংকিংয়ে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা ভুটানের শেরিং কিনলের কাছে ৬-২ সেট পয়েন্টে হেরে হতাশ করেন।
এ আসরের শীর্ষ বাছাই আব্দুর রহমান আলিফ বেশি হতাশ করেন। প্রথম দুই ম্যাচে নেপালের পান মাগার তিলককে ৬-০, ভুটানের পেনজর সোনামকে টাইব্রেকারে ১০-৫ পয়েন্টে হারিয়ে সেমিফাইনালে আসেন। তবে ভুটানের শেরিং কিনলের কাছে ৬-২ ব্যবধানে হেরে যান। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচেও মালয়েশিয়ার তরুণ মাহাথির ওয়ান কাইমের কাছে পাত্তাই পাননি আলিফ, হারেন ৬-০ ব্যবধানে।
মেয়েদের এককে শিমু ভুটানের ওম কেজাংকে ৬-০, মালয়েশিয়ার নুর আলিশা নাজলাকে ৬-৪ হারিয়ে সেমিফাইনালে এলেও চীনের লি মুজির কাছে হেরে যান। এরপর ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে হারেন মালয়েশিয়ার নূর লেকা হারিয়েশার কাছে। নাসরিন প্রথম ম্যাচে ভুটানের দেমা শেরিংকে হারালেও মালয়েশিয়ার নূর লেকা হারিয়েশার কাছে হারেন কোয়ার্টার ফাইনালে।
অনূর্ধ্ব-১৮ বয়স বিভাগের তিন ইভেন্টের একটিতেও পদক জেতেননি বাংলাদেশের আরচাররা। বালিকা এককে সায়মা সালাউদ্দিন হতাশ করেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের ইউ জিচ্যাংয়ের কাছে হেরে।
পুরো ট্রেনিং প্রোগ্রাম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। বাংলাদেশ দলের আরচারদের পারফরম্যান্সে মোটেও সন্তুষ্ট নন তিনি। বিশেষ করে এশিয়ান গেমসের মাত্র মাস দেড়েক আগে এ রকম টুর্নামেন্টে রিকার্ভ আরচারদের বিবর্ণ পারফরম্যান্স ভাবাচ্ছে তাকে, ‘প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ ছিল। কিছু দুর্বল দিক চোখে পড়েছে। যেগুলোতে আমাদের আরও কাজ করতে হবে। তবে সবকিছুই যে খারাপ, তা নয়। আমাদের কিছু শক্তির দিকও আছে এবং আমাদের কাজ সেই শক্তির দিকগুলোকে আরও শক্তিশালী করা আর দুর্বল জায়গাগুলোকে ঘষেমেজে গুছিয়ে নেওয়া। আমি কারও নাম বলব না। তবে কয়েকজনের পারফরম্যান্স ছিল সত্যি হতাশাজনক। কিন্তু তাই বলে হাল ছেড়ে দেব না। আগামী দিনগুলোয় প্রত্যেকের পারফরম্যান্স গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। আমি এখনো এশিয়ান গেমসে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী।’ টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।





