মরুর দেশে নাজমুলদের প্রথম পরীক্ষা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৬১টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। তবে আজ আবুধাবিতে শুরু হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট আগের সবগুলো ম্যাচের চেয়ে একটু আলাদা। কারণ, এর আগে কখনোই আরব আমিরাতে টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ, খেলেনি নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও। ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজের দেশে এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ আসেনি আফগানদের, তারা ‘হোম সিরিজ’ খেলে ভারতে নয়তো আরব আমিরাতে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে তারা ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে আবুধাবিকে, যে মাঠে ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলেছিল আফগানিস্তান।
ম্যাচটা যেহেতু আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত নয়, বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্যের অনেককে বিশ্রাম দিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া। যদিও বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা সে পথে হাঁটেননি। বরং স্কোয়াডে মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলামদের রেখেছেন। বার্তাটা স্পষ্ট, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে হলেও ম্যাচটাকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না বাংলাদেশ, সেই সঙ্গে চলতি মাসের শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্টের আগে ক্রিকেটারদের ভালোভাবে তৈরি হওয়ার সুযোগও।
উইকেট গতকাল একটু দেখার সুযোগ হয়েছে। দেখে ভালো মনে হয়েছে, হয়তো একটু স্লো থাকতে পারে। বাট আমার মনে হয় যে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হবে। আশা করছি, খুব ভালো একটা টেস্ট ম্যাচই হবে : নাজমুল হোসেন শান্ত
এশিয়ান গেমস খেলতে জাপান গেলেও জ্বর নিয়ে আগেই ফিরেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, পারেননি খেলতে। টেস্ট শুরুর আগে তার সুস্থতা নিয়েই ছিল সবচেয়ে বেশি শঙ্কা। অধিনায়ক জানিয়েছেন, তিনি শঙ্কামুক্ত, ‘আমার পার্সোনালি রিকভারি ভালো হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ এখন সুস্থ আছি। লাস্ট দুদিন প্র্যাকটিস করেছি, ভালো ফিল করছি।’ আবুধাবির উইকেট বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের আগে দেখেননি শান্ত, তবে আগের দিন দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন, ‘উইকেট গতকাল একটু দেখার সুযোগ হয়েছে, আজ আরেকবার একটু দেখব। দেখে ভালো মনে হয়েছে, হয়তো একটু স্লো থাকতে পারে। বাট আমার মনে হয় যে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হবে। আশা করছি, খুব ভালো একটা টেস্ট ম্যাচই হবে।’
ব্যাটিংটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা। অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইনে অপ্রত্যাশিত জয়ের আলোয় অনেকটাই ঢাকা পড়ে গেছে ম্যাকাইয়ে দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার লজ্জা। শান্ত নিজেও প্রথম ইনিংসে আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে, দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৩১। তবে ব্যাটিং নিয়ে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা লিটন কুমার দাসকে ঘিরে। অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ইনিংসে তার রান শূন্য, শূন্য এবং শূন্য। এরপর জাপান, দেশ এবং সংস্করণ বদল হলেও তার ভাগ্য খুব একটা বদলায়নি। সেখানেও ২ এবং শূন্য। জাতীয় দলে সবশেষ পাঁচ ম্যাচে চারবার শূন্য রানে আউট হওয়া লিটনকে বসিয়ে বিকল্প উইকেটরক্ষক হিসেবে যাকে নেওয়া যেতে পারে, সেই জাকের আলি অনিক আরও অনির্ভরযোগ্য।
তবে লড়াইটা হবে মূলত দুই দলের স্পিনারদের। তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে নাঈম হাসানও ঢুকে যেতে পারেন একাদশে। মূল স্কোয়াডের বাইরে ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবেই নাঈম গিয়েছিলেন আরব আমিরাতে। তবে কন্ডিশন, বিশেষ করে আবুধাবির গরম আর উইকেটে স্পিনারদের সাফল্য বাংলাদেশকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে একাদশে তিনজন স্পিনার খেলাতে। সেক্ষেত্রে কাউন্টি ক্রিকেটে ভালো করে আসা পেসার খালেদ আহমেদকে হয়তো বেঞ্চেই থাকতে হবে। শান্ত আশা করছেন, দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হবে টেস্টে, ‘দীর্ঘদিন পর আমরা টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছি, তাই দল ঘিরে রোমাঞ্চটা স্বাভাবিক। আমি মনে করি, দুই দলই জয়ের জন্য সর্বোচ্চ লড়াই করবে। বাংলাদেশ দল হিসেবে আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে। আশা করছি, দর্শকরা দারুণ একটি ম্যাচ দেখতে পাবেন।’



