হাত তুলে দিলেন প্রধান নির্বাচক!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
২৩ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সূচি অনেক আগেই চূড়ান্ত। সেই হিসেবে দল গোছানো, ক্রিকেটারদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি— সবকিছুই হওয়ার কথা ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। সেরা প্রস্তুতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কথা বাংলাদেশের।
সমর্থকদের মধ্যেও আশা তৈরি হয়েছিল। কারণ দেশের মাটিতে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে বিভিন্ন ফরম্যাটে হারানোর সাফল্যও তাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ায় নিশ্চয়ই ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। অজিরাও তাদের সেরা দল ঘোষণা করেছে, সুতরাং তারা আর হালকাভাবে নিচ্ছে না বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। বেশ সমীহ করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে।
গতকাল সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে তাই নিজেদের আত্মবিশ্বাস, প্রস্তুতির গল্পই শোনানোর কথা ছিল, যা আশাবাদী করত সমর্থকদেরও। কিন্তু হয়েছে উল্টো। প্রত্যাশায় জল ঢেলে দিয়ে সফরের আগেই যেন হাত তুলে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
সেরা সাফল্য নয়, বরং অস্ট্রেলিয়া থেকে সম্মান নিয়ে ফিরতে পারলেই খুশি টিম ম্যানেজমেন্ট। সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুল বাশার কোনো রাখঢাক না করেই বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া থেকে সম্মান নিয়ে ফিরতে চাই।’ দুই টেস্টের এ সিরিজে কোনো ম্যাচ জয় কিংবা ড্রয়ের কথা বলেননি প্রধান নির্বাচক। তাহলে কি সম্ভাব্য হারের মধ্যেও যেন দলের সম্মান হারিয়ে না যায়, এটাই ভাবছেন বাশার!
এটা একেবারে রক্ষণাত্মক মানসিকতা। টেস্ট দলের সেরা একাদশের তিন নিয়মিত ক্রিকেটারকে না পাওয়াটাই ব্যাকফুটে ঠেলে দিল প্রধান নির্বাচককে। ব্যাটিংয়ে লিটন দাস এবং বোলিংয়ে দেশসেরা ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা ও পেসার শরিফুল ইসলামের ইনজুরিই দায়ী। নাহিদ রানা অনুপস্থিত পুরো সিরিজে। বাকি দুজনের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে খেলার সম্ভাবনা আছে।
ভুল পথে হাঁটা শুরু তাদের জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে। দেশের মাটিতে গত জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ইনজুরিতে পড়েন লিটন দাস। দুই সপ্তাহের মতো বিশ্রামের পর তার স্ক্যান রিপোর্টে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। ফিট আছেন ধরে নিয়ে লিটনকে নেওয়া হয়েছিল জিম্বাবুয়েতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে অনুশীলনে তার কাফ মাসলে আগের ব্যথাটা আরও বেড়ে যায়। তাই আবার দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয় এ ব্যাটারকে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে এখন ফিট হওয়ার অপেক্ষায় লিটন।
তাহলে দেশে বিসিবি মেডিকেল বিভাগের স্ক্যান রিপোর্ট কি ভুল ছিল? হাবিবুল বাশার এ নিয়ে বলেছেন, ‘মেডিকেল বিভাগের ভুল বলব না। কারণ তারা তো স্ক্যানের প্রমাণের ওপরই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। স্ক্যানে যখন নতুন কিছু পাওয়া যায়নি, তখনই লিটনকে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়। পরে যে পরিস্থিতি হয়েছে, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। সব স্ক্যানে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তবুও লিটনের ব্যথা কমছিল না। পরে সিঙ্গাপুরে করা স্ক্যানে টিয়ার নয়, ফোলা (সোয়েলিং) ধরা পড়ে।’
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে নাহিদ রানার ছিটকে যাওয়ায়। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের কথা ভেবে দলের সেরা অস্ত্রকে আরও সতর্কভাবে কি ব্যবহার করা যেত না? হাবিবুল বাশার এটাকে দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখছেন, ‘চাইলে নাহিদকে বিশ্রাম দেওয়া যেত। কারণ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। কিন্তু একজন ফাস্ট বোলারকে প্রস্তুত থাকতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বল করতে হয়। তাই তাকে কিছুটা খেলতেই হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোটটা সেখানে হয়েছে। এটা অস্ট্রেলিয়ায় হতে পারত।’
নাহিদকে খেলিয়েও জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জয়ের পর এ হার কোনো ব্যাখ্যায় মেলানো যায় না। প্রধান নির্বাচকও বুঝতে পারছেন, জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট ও ওয়ানডে হারায় ‘নাক কাটা’ গেছে তাদের।
এবার অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। যেখানে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামার কথা ছিল, সেখানে এখন ভালো পারফর্ম করার প্রতিশ্রুতিও দিতে পারছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। জিম্বাবুয়েতে ব্যাটিং ব্যর্থতার ভয় কাজ করছে ব্যাটারদের মাথায়। সঙ্গে ক্ষয়ে গেছে বোলিংয়ের শক্তিটাও। তাই যেন প্রধান নির্বাচকের মনে শঙ্কা কাজ করছে এ সফর নিয়ে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বিশ্ব মিডিয়ায় বাংলাদেশ নিয়ে একটা নেতিবাচক প্রচারণা ছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট দুই-এক দিনের মধ্যেই শেষ হবে! এই শঙ্কা উড়িয়ে দ্বিতীয় টেস্ট গড়িয়েছিল চতুর্থ দিনে। এবার বাংলাদেশের সেরা একাদশে কিছুটা বিচ্যুতি হলেও ম্যাচ পঞ্চম দিনে গড়ালেই হয়!




