ফাইনাল হারলেও লড়াইয়ের সন্তুষ্টি

এবার আর অসহায় আত্মসমর্পণ নয়, সব দিক থেকে এগিয়ে থাকা ভারতের মেয়েদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করল স্বাগতিক বাংলাদেশ। শুরুর ১০ মিনিটে লড়াই হলো সমানে-সমান। তারপরও ঘরের মাঠে শিরোপা জেতা হয়নি। বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা শক্তিশালী ভারতের কাছে হেরেছে ২৮-১৬ গোলে।
শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি বললেন, ‘আসলে আমরা তো টুর্নামেন্ট পাই না। আমরা সেই ২০১৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ খেলেছি। যদি নিয়মিত এরকম ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ পাই, তাহলে আমরাও অনেক ভালো করতে পারব।’ ম্যাচটা লড়াই করে হারায় সন্তুষ্টিও ঝরল তার কণ্ঠে, ‘তাদের গোলরক্ষক কিছু নিশ্চিত গোল সেভ করায় আমরা পিছিয়ে পড়ি। আমরা সব দিক দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। আমার দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ই ভালো খেলেছে এবং নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করেছে।’
২৬ বছর পর দেশের মাটিতে সিনিয়র পর্যায়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন। চার দলের আসরে বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল নেপাল। ২০১৯ এসএ গেমসে যাদের কাছে হেরে ব্রোঞ্জে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে এ টুর্নামেন্টের শুরুর ম্যাচেই নেপালকে ৩৩-২০ গোলে হারিয়ে বাজিমাত করে স্বাগতিকরা। তাতে ফাইনালের পথও প্রশস্ত হয়। তবে লিগ পর্বে ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় ৪৭-১৩ গোলে হেরে। বড় হারের ধাক্কা সামলে অবশ্য মালদ্বীপকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখেন বাংলাদেশের মেয়েরা।
ফাইনালে আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার দল হারলেও কুড়িয়ে নিয়েছে বাহবা। বাংলাদেশ লড়াইটা করেছে ম্যাচের শুরু থেকেই। প্রথমার্ধে ভারত ১৪-৯ গোলে এগিয়ে ছিল। শারীরিক সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষকে ভয়ংকর হতে দেননি বাংলাদেশের অনভিজ্ঞ মেয়েরা। গোল হজম করলেও প্রথমার্ধে জবাবও তারা দিয়েছে সামর্থ্যের সেরাটা উজাড় করে।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য দৃশ্যপট বদলে যায়। ভারত ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়। শেষদিকে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের। ম্যাচে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও ভারতীয় শক্ত রক্ষণভাগ ভেদ করে প্রত্যাশিত গোলের দেখা পাননি সাকিবা-নিশিরা। তা ছাড়া বাংলাদেশের একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন ভারতের গোলরক্ষক দিকশা কুমারী। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।



