অনুপ্রেরণার নাম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের হিসাব থেকে বাংলাদেশকে বাইরে রাখার চিন্তা ছিল। দ্বিস্তর টেস্ট চালু না হওয়ায় মূল লড়াইয়েই থাকতে পেরেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খুব ভালো কাটেনি। এরপর থেকে এই সাদা পোশাকের লড়াইকে বেশ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় এখন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার স্বপ্নও দেখা হচ্ছে।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল সেই স্বপ্ন একেবারে অসম্ভবও নয়। বাকি ছয় টেস্টে কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে নিতে পারলে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের। সেই সম্ভাবনা নিয়ে এখনই দূরের হিসাব কষতে রাজি নন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে বাংলাদেশের সামনে আছে ছয়টি টেস্ট। উইন্ডিজের বিপক্ষে দুটির পর দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি এবং আগামী বছর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে অন্তত চারটি টেস্ট জয়ের সঙ্গে একটি ড্র করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শান্ত বলেছেন, ‘আমি অনেক দূরে এখনই চিন্তা করছি না। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে থাকি, অবশ্যই আমাদের অর্জন করা সম্ভব। আমরা প্রতি ম্যাচ, প্রতিটা সেশনের দিকে নজর দিচ্ছি। দিনশেষে যদি আমরা একটা টেস্ট ম্যাচ পরেও ভালো রেজাল্ট নিয়ে আসতে পারি, ওইটা আমাদের জন্য হেল্প করবে ভবিষ্যতের জন্য।’
অর্থাৎ ফাইনালের স্বপ্নটা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না, আবার সেটিকে সামনে রেখে বাড়তি চাপও নিতে চাইছেন না। বাংলাদেশের সামনে এখন যে সমীকরণ, সেটি এমনিতেই কঠিন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাকি ছয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত চারটি জয় ও একটি ড্র দরকার বাংলাদেশের। তাহলেই ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বাস্তবতার বিচারে কাজটি কঠিন। তাই শান্তও দূরের লক্ষ্য না ভেবে ছোট ছোট লক্ষ্যেই এগোতে চান।
শান্তর কথায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের আরেকটি দিকও। কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়ার প্রবণতা আগের তুলনায় কমেছে বলে মনে করেন তিনি। ড্রেসিংরুমে এ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয় বলেও জানিয়েছেন অধিনায়ক। ‘সম্প্রতি এই জিনিসটা একটু কমে এসেছে। আমি বলব না যে অনেক ভালো, তবে অনেকটাই কমে এসেছে’— বললেন শান্ত।



