৭ দ্রষ্টা
বাংলাদেশের শিশু চিকিৎসার পুরোধা এম আর খান

ডাক্তার এম আর খান (১ আগস্ট ১৯২৮ – ৫ নভেম্বর ২০১৬)
বাংলাদেশের শিশু চিকিৎসার জনক মনে করা হয় জাতীয় অধ্যাপক ডাক্তার এম আর খানকে। শিশুদের জন্য যে বিশেষ ধরনের চিকিৎসাব্যবস্থা ও চিকিৎসক দরকার, এ ধারণা দেশে তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এমবিবিএস পাস করেছিলেন ১৯৫২ সালে। তারপর চলে যান সাতক্ষীরায় নিজ এলাকায়। এটা এমন সময়ের কথা, যখন গোটা সাতক্ষীরায় কোনো এমবিবিএস চিকিৎসকই ছিলেন না। এরপর পাড়ি জমালেন যুক্তরাজ্যে। ফিরে এলেন চিকিৎসাশাস্ত্রে শীর্ষ ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে। কর্মজীবনের সূচনা হয় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে পিজি হাসপাতালে। পিজিতেই চালু করেন শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক কোর্স। সে সময় দেশে শিশুরোগের চিকিৎসক ছিল হাতেগোনা।
রাজশাহী মেডিকেলে শিশু বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় তারই হাতে। চাকরি শেষে নিজের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন এম আর খান-আনোয়ারা ট্রাস্ট। এরপর জাতীয় পর্যায়ে শিশুস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, শিশুস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতালসহ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি শিশু হাসপাতাল, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট তার গড়া। তার হাত দিয়ে বেরিয়েছে বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা।
১৯৫২ থেকে ২০১৬, দীর্ঘ ৬৪ বছর তিনি চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা।
দেশ থেকে পোলিও দূর করতে উদ্যোগী ভূমিকা রেখেছিলেন এম আর খান। কাজ করেছেন ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের সংগঠন ‘আধূনিক’-এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে। এসেন্স অব পেডিয়াট্রিকস, ড্রাগ থেরাপি ইন চিলড্রেন, এসেন্স অব এন্ডোক্রিনোলজি, আপনার শিশুর জন্য জেনে নিন, মা ও শিশুসহ তার লেখা আটটি বই রয়েছে।
ডা. এম আর খান ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট সাতক্ষীরার রসুলপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আইএসসি পাস করার পর ১৯৪৪ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকেই এমবিবিএস পাস করেন।
কিংবদন্তিতুল্য এ মানুষটি সাধারণ আটপৌরে জীবনযাপন করতেন। শিশু চিকিৎসার জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন ঢাকা থেকে যশোর, সাতক্ষীরাসহ নানা জায়গায়। সাধারণ মানুষের জন্য সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা ছাড়া চালু করেছেন অনানুষ্ঠানিক সান্ধ্যকালীন প্রাথমিক শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিং। পরিবেশ উন্নয়ন, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, আর্সেনিক ফিল্টার বিতরণ, স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপনসহ নানা কর্মকাণ্ডেও ছিলেন অগ্রপথিক। এসব কাজে অধিকাংশ সময় নিজেই অর্থ যোগাতেন।
২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর মহৎ হৃদয়ের এ মানুষটি মারা যান।




