মাল্টিমিডিয়া
‘পানির মতো সোজা’ ডিপার্টমেন্ট থেকে বলছি

ছবি: আগামীর সময়
আমি যে ডিপার্টমেন্টে কাজ করি, তার নাম ‘খুব সোজা’। আরেকটু সোজা করে বললে, ‘পানির মতো সোজা’। তবে পানি সোজা কোনো বিষয় কি না, সেই আলাপে যাচ্ছি না। কিন্তু খুব সোজা বা পানির মতো সোজা বলার ব্যাখ্যা দিই। এই ডিপার্টমেন্টে যে কাজগুলো হয়, তা সবাই পারে। অফিস সহকারী থেকে অফিসের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তি পর্যন্ত। আপনি এতক্ষণে বুঝতে পারছেন, আমি মাল্টিমিডিয়ায় কাজ করি। এখন মাল্টিমিডিয়ার কাজ কেন খুব সোজা? আগে ঢাকায় কাকের সংখ্যা বেশি থাকলেও এখন সেটা দখল করে নিয়েছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তো, মানুষের চোখে আমরাই সেই কীর্তিমান (পড়ুন আতঙ্ক), যারা কনটেন্ট বানাই।
এই ডিপার্টমেন্টে ইস্পাতের মতো কঠিন মানুষ লোপা আহমেদ। মাল্টিমিডিয়ার চিফ নিউজ এডিটর। আগে থেকেই শুনেছি, তিনি ইস্পাতের চেয়েও কঠিন, বাঘের চেয়েও ভয়ংকর। ফলে খুব খুশি হয়েছিলাম। কারণ নিজে যেহেতু ভয়ংকর বাঘ হতে পারিনি, তাই টিমে একজন ‘আসল’ বাঘ খুব দরকার। তিনি এলেন, যুক্ত হলেন, আর আমরা আবিষ্কার করলাম, এই ‘পানির মতো সোজা’ টিম একজন মমতাময়ী বাঘ পেয়েছে।
ভিডিও এডিটিং টিমের কাণ্ডারি নুরুস সাফা। ভীষণ কাজপাগল। সবচেয়ে ভালো বিষয়, সারা দিন ফেসবুক, ইউটিউবের অ্যানালিটিকস খুলে বসে থাকেন। টিমের বাকিরা কেন ওর মতো হয় না, এ নিয়ে মিটিং করতে হবে!
সোজা টিমে জেন-জি আছেন সাত-আটজন। আমি জেন-জিদের খুব ভয় পাই! সেই কারণে ভুল-ভ্রান্তি বেশি ধরি না। তবে নিয়ামুল করিম নিলয় নিজেকে জেন-জি বলতে নারাজ। তার জন্ম ১৯৯৭ সালে। আমার মতে, তিনি ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ জন্ম নিলেও পিওর জেন-জি। কিন্তু নিলয়ের মতে, তিনি না মিলেনিয়াল, না জেন-জি; বরং জিলেনিয়াল। আরেক জেন-জিকে বিশেষ ভয় পাই। রিয়াজুল ইসলাম। একে তো তিনি জেন-জি, তার ওপর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া (ভয়ে কাঁপছি— এমন ইমো ভাবতে হবে)। টিমের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য তাসনিম অর্পিতা। বয়সের হিসাবে ছোট; কিন্তু গলা সবচেয়ে বড়। ভুল করলেও সারাক্ষণ তর্ক করেন। জোরে ধমক দেওয়ার পর থামেন। তারপর একটা চিঠি নিয়ে আসেন; ঠিক ধরছেন, রেজিগনেশন লেটার!
টিমে খান ফাহিম খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিদিন নিয়ম করে ওর পেছনে আমাকে অনেক সময় দিতে, ওকে গুরুত্ব দিতে হয়। টিমের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ইফতেখার আহমেদ। তিনি এতটাই বিনয়ী যে দেখা হলেই মনে হবে, আমাদের আজকেই প্রথম পরিচয় (কাঁধ নিচু করে ‘জি, জি, জি...’ বলার ইমো হবে)। এবার লাবিবের কথা বলি। ওর সঙ্গে দেখা হলেই বলি, ‘তোমার কণ্ঠটা অনেক সুন্দর।’ এই কথা শোনার পর তিনি হাসেন। জিজ্ঞেস করেন, ‘ভাই, কাহিনি কী?’ অনেক দিন বলিনি, কাহিনি হলো, একদিন ওর কনটেন্ট আমাকে পাঠিয়ে এক মেয়ে এ কথা বলেছিল!
টিমের আইডিয়াবাজ নাবিলা মারজুক। ওর মাথায় এত আইডিয়া, এত আইডিয়া যে... কোনোটাই এক্সিকিউট করা সম্ভব হয় না। কারণ, কোনো আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করার আগেই ওর মাথায় আগেরটার চেয়ে ভালো আরেকটা আইডিয়া চলে আসে। অন্যদিকে, জান্নাত নিপু কাজে খুব সিরিয়াস। সময়মতো অফিসে আসা, নিজ দায়িত্বে কাজ করা— এসব গুণ তাকে সবার থেকে আলাদা করে রেখেছে।
শেখ সাদিয়া বানু একদিন টিমের কারও ওপর খেপে বলেছিলেন, ‘কেউ কাউকে ওপরে উঠতে দেয় না, নিচে টেনে নামাতে ব্যস্ত!’ দুর্ভাগ্যক্রমে কথাটা আমি শুনে ফেলেছিলাম। এরপর থেকে ওকে ১৪ তলায় (টপ ফ্লোর) কাজ করতে বলেছি, যেন কেউ নিচে নামাতে না পারে। ইফতেখারের পরে যদি কেউ বিনয়ী হয়ে থাকেন, তিনি আব্দুল্লাহ শামস। এই টিমে একজন ‘ম্যাকগাইভার’ আছেন। তার স্ক্রিন নাম ‘ম্যাক সাব্বির’। মানে সাব্বির লেখার আগে ইংরেজি ক্যাপিটাল লেটারে ‘এমএকিউ’ লিখেন। ওর সঙ্গে প্রথম যেদিন কথা হয়, সেদিন কোনো ভব্যতা ছাড়াই জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আপনার নাম কি মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস?’ খুব লজ্জা পেয়ে, মাথা নিচু করে বলেছিলেন, ‘না ভাই, আমার নাম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির।’
আমাদের অফিসে ‘রাজ’-এর ছড়াছড়ি। স্পোর্টসে একজন রাজ থাকার পাশাপাশি আমাদের টিমে আছে দুজন - রেজাউল শেখ রাজ ও আব্দুর রহিম রাজ। একজনকে ডাকলে দুজনই চলে আসে। আর তিনজন পাশাপাশি থাকলে তো বলাই বাহুল্য— বাই ওয়ান গেট থ্রি!
শেষের দিকে এসে মনে পড়ল, একজনের নাম না নিলে তিনি কান্নাকাটি করবেন। পান্থ আফজাল। ‘পানির মতো সোজা’ টিমের এন্টারটেইনমেন্ট হেড। সেই হিসেবে আমাদের প্রতিদিন এন্টারটেইন করে যাচ্ছেন। ভীষণ নাজুক এই কবিকে নিয়ে বিশেষ কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম। না হয় একটু পর আমার বন্ধু মাহতাব হোসেন এসে বলবেন, “আপেল জানেন, পান্থর আসল নাম কিন্তু আফজাল হোসেন; ‘পান্থ’ সে নিজেই রাখছে।”




