জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসু নেতা

জায়িদ হাসান জোহা
‘শহীদ জননী’ জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীকে ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা। আজ শনিবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করে এই মন্তব্য করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে জোহা লেখেন, ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’
পোস্টটি সোশ্যালে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অনেকে এর সমালোচনা করেছেন।
জোহার পোস্টের সমালোচনা করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী এক পোস্টে লেখেন, ‘রাকসুর অপ!সংস্কৃতি সম্পাদক জোহা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বলে ফতোয়া দিয়েছে। কারণ জাহানারা ইমামই প্রথম ওদের জাতির পিতা রাজাকার কূলের শিরোমণি গোলাম আজমকে গণআদালতে ফাঁসি দিয়েছিল। এটাই আমাদের গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক খেসারত যে জোহার মতো যুদ্ধাপরাধীর উত্তরসূরীরা দেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, শহীদের মাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সাহস পায়।’
রাবির সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান আমান লিখেছেন, ‘রাবিতে যারা ছাত্ররাজনীতি করে তারা খুবই আনস্মার্ট। ক্যাম্পাসে এতক্ষণ প্রতিবাদমুখর হওয়া উচিত ছিল। রাকসুর অপসংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবিতে রাকসুর সভাপতিকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত। তারা বাংলাদেশে থেকে এদেশের ইতিহাস কটাক্ষ করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জায়িদ হাসান জোহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিগত সময়ে যেই তথাকথিত ‘যুদ্ধাপরাধীর’ নামে যেই হত্যাকাণ্ড হয়েছিল সেই গ্রাউন্ডটা জাহানারা ইমামের হাত ধরে তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশে মব কালচারের গোড়াপত্তনকারী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলেছি।
তার ভাষ্য, ‘আমি কোনো শহিদের মা নিয়ে বাজে মন্তব্য করিনি। তবে এখানে কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করা হয়নি। শহিদের মা পরিচয় কারো ‘খুনী’ পরিচয় মুছে দিতে পারে না।’




