সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন
যুগ্মসচিব প্রত্যাহার, বুয়েট শিক্ষকের কী হবে?

নুরজাহান বেগমের মরদেহ (বাঁয়ে), বুয়েট শিক্ষক আশিকুর রহমান (ডানে)।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর একটি বাসায় নুরজাহান বেগম (৭৫) নামের এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তার সন্তানদের অবহেলার বিষয়টি গণমাধ্যমে আসলে পরিণত হয় ‘টক অব দ্য কান্ট্রিতে’।
এরপরই আজ বুধবার নুরজাহান বেগমের বড় ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে মোংলাবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করেছে সরকার।
এদিকে, নুরজাহান বেগমের এক ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। একই সঙ্গে আরেক ছেলে বুয়েট শিক্ষক আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরা। মুফতি সাইফুল ইসলাম নামের একজন লিখেছেন, ‘মায়ের প্রতি অবহেলায় যুগ্মসচিব শাস্তি পেলেন, বুয়েটের শিক্ষক কেন শাস্তির আওতায় আসেন নাই? বুয়েট স্বায়ত্তশাসিত বলে?’
একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মনির হোসেন নামের আরেকজন। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘শুধু এক ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। ওই নারীর প্রত্যেক সন্তানকে তাদের পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। এটা শিক্ষনীয় হয়ে থাকবে সমাজে।’
এদিকে, নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। ওই নারীর সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে দায়ের করেন রিটটি। আগামী ৭ জুন হবে রিটের শুনানি।
এর আগে গত ১ জুন রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পল্লবী ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর সড়কের একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার ওই ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
থানা পুলিশ জানিয়েছে, মেয়ের ফ্ল্যাটে থাকতেন নুরজাহান বেগম। তার স্বামী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। নিহতের দুই ছেলে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং পরিবারসহ আলাদা থাকেন তারা।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়, যেখানে বৃদ্ধার মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন নিঃসঙ্গ অবস্থায় থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।





