দিলশানা পারুল
চীনের দুঃখ হোয়াংহো, জুলাই-পরবর্তী দুঃখের নাম উমামা

উমামা ফাতেমা (বাঁয়ে) এবং দিলশানা পারুল (ডানে)—ছবি: সংগৃহীত
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত ও সম্ভাবনাময় নারী নেতৃত্ব ছিলেন । তবে অভ্যুত্থানের পর তিনি সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত না হওয়ায় দেশের রাজনীতি একজন সম্ভাবনাময় নারী নেত্রীকে হারিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী দিলশানা পারুল।
পোস্টে দিলশানা পারুল উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে উমামা ফাতেমা সামনের সারিতে ছিলেন। নুসরাতকে ডিবি পুলিশ আটক করার সময়ও উমামা আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন। তিনি নাহিদ ইসলাম ও আব্দুল কাদেরসহ সমন্বয়কদের সঙ্গে কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক পটভূমি তাকে নেতৃত্বের জায়গায় এগিয়ে নিয়েছিল।
‘অভ্যুত্থানের পর ছাত্র ফেডারেশন থেকে পদত্যাগ করে উমামা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র হন। তখন তার মনে হয়েছিল, এটি মূলধারার রাজনীতিতে উমামার প্রথম পদক্ষেপ।’—যোগ করেন তিনি।
তার দাবি, উমামা যদি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিতেন, তাহলে তিনি দলের প্রথম সারির অন্যতম শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব হয়ে উঠতে পারতেন। এমনকি ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং প্রয়োজনে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে সংসদে যাওয়ারও সম্ভাবনা ছিল।
ফেসবুক পোস্টে দিলশানা জানালেন, উমামা দলীয় রাজনীতিতে না আসার পেছনে তার নিজস্ব রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান, মধ্যবিত্ত নৈতিকতা এবং বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব থাকতে পারে। এসব ব্যক্তিগত অবস্থানকে তিনি সম্মান করেন। তবে অভ্যুত্থানের সামনের সারির একজন নারী নেতৃত্ব হয়েও দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত না হওয়াকে তিনি উমামার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা কিংবা নাহিদদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন না।
নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি লালনসংগীতশিল্পী সালমার উদাহরণ টানেন। তার ভাষ্য, মূলধারার মিডিয়ায় তুলে ধরার চেষ্টায় সালমাকে তার নিজস্বতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এতে তিনি যেমন নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হারিয়েছেন, তেমনি মূলধারাতেও স্থায়ী হতে পারেননি। এই উদাহরণ দিয়ে দিলশানা বলেন, পুঁজিবাদী ব্যবস্থা সম্ভাবনাময় প্রতিদ্বন্দ্বীদের মূলধারার কাঠামোর মধ্যে নিয়ে গিয়ে তাদের স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে ফেলে।
উমামা ফাতেমাকেও বিভিন্ন সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সিভিল সোসাইটির প্ল্যাটফর্ম ও বুদ্ধিজীবী ফোরামের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্মে দ্রুত পরিচিতি ও গণমাধ্যমের প্রচার মিললেও রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘমেয়াদে প্রাসঙ্গিক থাকা কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দিলশানা পারুলের ভাষ্য, যে তরুণীর একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক নেত্রী এবং তরুণদের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তাকে শেষ পর্যন্ত একজন সিভিল সোসাইটির বক্তায় পরিণত করা হয়েছে। তার মতে, একজন রাজনৈতিক নারী নেত্রীর পরিবর্তন আনার সক্ষমতা এবং একজন অরাজনৈতিক বা নির্দলীয় নারী বক্তার প্রভাব কখনোই এক নয়।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, চীনের দুঃখ হোয়াংহো, আর আমার জুলাই-পরবর্তী দুঃখের নাম উমামা ফাতেমা।’






