আম্মারের মায়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস
‘একমাত্র ছেলেকে দেশের মানুষের জন্য দিয়ে দিয়েছি’

সংগৃহীত ছবি
নিজের একমাত্র সন্তান সালাহউদ্দিন আম্মারকে দেশের মানুষের জন্য দিয়ে দিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক পোস্টে জানিয়েছেন তার মা রোকেয়া খানম।
শুক্রবার রাতে দেওয়া সেই ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন তিনি, ‘এক সালাহউদ্দিনকে নিয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত আমার অনেক বেশি চিন্তা হতো। যেদিন আবু সাঈদ শহীদ হলেন, সেদিনই আমি আমার একমাত্র ছেলেকে দেশের মানুষের জন্য দিয়ে দিয়েছি। আমার সন্তানকে কেউ ঘৃণা করলে সেটা দলের জন্য করে, আর তাকে ভালোবাসলে দেশের জন্য ভালোবাসে।’
জীবনে অনেক কিছু দেখেছেন বলে জানাচ্ছিলেন রাকসু নেতার মা। আপন ভাইকে বিএনপির রাজনীতির কারণে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটাতেও দেখেছেন। আরও দেখেছেন জামায়াত সমর্থনের কারণে স্বামীকে কোমরে দড়ি বেঁধে টানতে টানতে নিয়ে যেতে।
২০১৮ সালে ১৬ বছরের সালাহউদ্দিনকে দূরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন রোকেয়া খানম। তার অভিযোগ, সন্তানের কৈশোর কেড়ে নিয়েছে ফ্যাসিস্ট লীগ। এই ইস্যুগুলো দেখতে দেখতে আম্মারের জীবনে কারো জন্য, এমনকি নিজের জন্যও বিন্দু পরিমাণ আবেগ নেই।
আম্মারের মা বলছিলেন, ‘তাকে থামতে বলতে বলতে আমিও চলতে শিখে গেছি, থামতে আর বলি না—চলতে থাকুক। এখন শুধু নামাজে দোয়া করি, আল্লাহ যখন তাকে নিয়ে যাবেন তখন যেন আমি তাকে হাসিমুখে বিদায় দিতে পারি।’
সালাহউদ্দিন আম্মারের পরিবার নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব, এ তথ্য উল্লেখ করেছেন রোকেয়া খানম। ‘১৬ জুলাই ২০২৪ থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত আমাকে আর তার বাবাকে ঘরবন্দী করে রেখেছিল লীগ আর ডিবি। তার বাবার ওষুধ পর্যন্ত নিতে দেয়নি। তাদের একটাই কথা ছিল—সালাহউদ্দিনকে যেন ফিরিয়ে নিয়ে আসি, না হলে আমার স্বামীকে মেরে ফেলবে।’
প্রশ্ন ছুড়েছেন তিনি, ‘ছেলের জন্য আমাকে মারবেন? নাকি অসুস্থ স্বামীকে মারবেন? আল্লাহ সবকিছুই দেখছেন।’
জানাচ্ছিলেন আম্মারের মা, জিডি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী। প্রয়োজন হলে করবেন, তবে নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং জাহেলি যুগের মতো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকার জন্য। পরিবারের কোনোদিন কিছু হলে, যেন এই জিডির কপি দেখে সাহস পান বাংলাদেশের বিপ্লবী সন্তানদের মা-বাবারা।
আরও বলেছিলেন আম্মারের মা, ‘আমি একজন বিপ্লবী দেশপ্রেমিকের মা হয়ে বলব—রাজনীতি করুন, এটা আপনার অধিকার। সব দল, মত ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করুন, তবে সেটা যেন ইতিবাচক হয়। শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে যেন আমরা বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে দেখতে পাই।’

