পদত্যাগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এযাবৎকালের সেরা পরামর্শ: ইশরাক

সংগৃহীত ছবি
মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘এযাবৎকালের সেরা পরামর্শ’ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন; যা আমি একবাক্য মেনে নিয়েছিলাম। প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল; কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো ও আমার শুভাকাঙ্ক্ষী সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।’
বিএনপির এ সংসদ সদস্য লিখেছেন, ‘আমি তার (তারেক রহমান) প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী। আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বারবার পেয়েছি।’
শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি। এ কথাগুলো আমি শুধু একটা স্ট্যাটাস দেওয়ার জন্য বলছি না। সবাই আমার কথাগুলো দেখবে। আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তার কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি।’
সুযোগ সন্ধানীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেও যদি আঁতাত কারি হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে, অনুমতি নিয়েই পা**** চা**** তুলে নিবো। আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।’
শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিজের নির্বাচনী এলাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ইশরাক অস্ত্র হাতে নামার পর তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। পিস্তল উঁচিয়ে তার অভিযান আইনের লঙ্ঘন বলে সমালোচনা ওঠে।
পরদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর খবর আসে যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন ইশরাককে। গণমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশের পর ইশরাকের দপ্তর থেকে তা গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পরে সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, দল যাতে বিব্রত না হয়, সেজন্য স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়নি। ‘দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, মানে দল চায় নাই, আমাকে এটা করতে হচ্ছে। এটা আমি বক্তব্যে বলব,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেছিলেন, ‘সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের কারণে যেন মন্ত্রিসভা বা প্রধানমন্ত্রীর কাজ ম্লান না হয়, সে লক্ষ্যেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’



