তালেবানদের সঙ্গে ছবি তোলা মারিয়ান ঢাকায়, ঘুরছেন বস্তিতে ফুটপাতে খাচ্ছেন হালিম

মারিয়ান আবদি
ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে আফগানিস্তান এমন এক দেশ, যেখানে যাওয়া যেমন কঠিন, তেমনি দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে ভ্রমণও বেশ আলোচিত। সেই আফগানিস্তানেই একা ঘুরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন সোমালি-আমেরিকান ট্রাভেল ভ্লগার মারিয়ান আবদি।
মারিয়ান মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, খাবার, মানুষের জীবনযাপন ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেন। ২০১৯ সাল থেকে ইনস্টাগ্রামে ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট প্রকাশ শুরু করেন তিনি। পরে ইউটিউবেও তার ভ্রমণভিত্তিক ভিডিও জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে একজন কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম নারী হিসেবে বিভিন্ন দেশে একা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই তার কনটেন্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছেন এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। ঢাকার রাস্তা, ফুটপাতে ঘুরছেন, ঘুরছেন কড়াইল বস্তিতেও। রাস্তার পাশে বসে তাকে হালিম খেয়েও উৎফুল্ল হতে দেখা গেছে।
ফুটপাতের হালিম খেয়েও মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। হালিম খাওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করে মারিয়ান লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে হালিম খেয়ে দেখছি! মাংস, ডাল, গম ও নানা মসলায় তৈরি ধীরে ধীরে রান্না করা এক মজাদার খাবার। এর স্বাদ ছিল অসাধারণ!’
ঢাকার যানজটে আটকে পড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করে মারিয়ান লিখেছেন, ‘রিকশা, টুকটুক, গাড়ি, পথচারী আর চারদিক থেকে হর্নের শব্দ! ঢাকার যানজট একেবারেই অন্য রকম অভিজ্ঞতা। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে একটা টাইলেনল খেতে হবে।’
কড়াইল বস্তিতে গিয়ে সেখানের বাসিন্দাদের আচরণে মুগ্ধ হয়েছেন। কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করেছেন কড়াইলের ভেতরের। একটি ভিডিওর সঙ্গে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের ঢাকায় কড়াইল বস্তি ঘুরে দেখছি! শিশুরা আমার সঙ্গে দেখা করতে পেরে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিল! কঠিন জীবনযাপন ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা আমাকে হাসিমুখে স্বাগত জানিয়েছে। জীবনের এমন সুন্দর একটি মুহূর্ত, যা কখনো ভুলব না।’
‘ঢাকার অন্যতম বৃহৎ বস্তি কড়াইলের ভেতর দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় একটি পরিবার আমাকে তাদের ঘরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কঠিন জীবনযাপন ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সেখানকার মানুষের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাদের আতিথেয়তা ছিল সত্যিই অসাধারণ।’ অপর এক ভিডিওতে লিখেছেন তিনি।
২০২৪ সালে আফগানিস্তান সফর করে নতুন করে আলোচনায় আসেন মারিয়ান। কাবুল, বামিয়ানসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সেখানকার সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাপন নিয়ে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। আফগানিস্তানে তাঁর ভ্রমণকে তিনি নিজের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরেন। একটি পোস্টে আফগানিস্তান ভ্রমণকে ‘স্বপ্নপূরণ’ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি।
তবে সফরের কিছু ছবি প্রকাশের পরই শুরু হয় বিতর্ক। সশস্ত্র তালেবান সদস্যদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তোলার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন মারিয়ান। আফগান নারী অধিকারকর্মী ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, তার এসব পোস্ট তালেবান শাসনের কঠোর বাস্তবতাকে আড়াল করে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে।
বিশেষ করে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার নিয়ে তালেবান সরকারের নীতির প্রেক্ষাপটে তার ছবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নারী অধিকারকর্মী নিলুফার নাঈমি তাঁর এমন কর্মকাণ্ডকে উদ্বেগজনক বলে সমালোচনা করেন।
তবে সমালোচনার জবাবও দিয়েছিলেন মারিয়ান। তার দাবি, তালেবানের সঙ্গে ছবি তোলার অর্থ তাদের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা নয়। তিনি যা দেখেছেন এবং তার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, সেটিই নিজের কনটেন্টে তুলে ধরেছেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, তিনি নারীদের অধিকার ও শিক্ষার পক্ষে এবং তালেবান সদস্যদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় আফগান মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণির পর পড়াশোনা করতে না পারার বিষয়টিও জানতে চেয়েছিলেন।
/






