গৃহিণীদের কাজে সহযোগিতাও ইবাদত

প্রতীকী ছবি
পরিবার একটি যৌথ দায়িত্বের নাম। শুধু একজনের শ্রমে সংসারে শান্তি, ভালোবাসা ও স্বস্তি গড়ে ওঠে না। এরজন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা। কারণ পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে একটি সুখী পরিবারের ভিত্তি। অথচ আমাদের সমাজে অনেক সময় গৃহিণীর সারাদিনের পরিশ্রমকে স্বাভাবিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়, তার শ্রমের মূল্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করা হয় না। ইসলাম এ দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে না। কারণ ইসলাম পরিবারে সহযোগিতার মনোভাবকে ইবাদত ও নেক আমল হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই এ বিষয়ে সর্বোত্তম আদর্শ। আম্মাজান আয়েশা সিদ্দীকা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি (রাসুল সা.) ঘরে কী করতেন? তিনি বলেছেন, ‘তিনি (রাসুল সা.) পরিবারের সদস্যদের কাজে সহযোগিতা করতেন। আর নামাজের সময় হলে নামাজে চলে যেতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৭৬)। এতে প্রমাণিত হয় যে, পরিবারের কাজে অংশ নেওয়া নববী সুন্নাহ।
বিশেষ করে নানান উৎসব আর রমজান মাসে এই দায়িত্ব আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে নারী-পুরুষ উভয়েই ক্লান্তি অনুভব করেন। কিন্তু দুপুর থেকে ইফতার প্রস্তুতি, রান্না, ঘর গোছানো এবং পরিবারের সবার প্রয়োজন পূরণের বড় অংশই সাধারণত গৃহিণীর ওপর বর্তায়। এমন সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা যদি রান্নাঘরে কিছুটা সাহায্য করেন, বাজারের কাজটি সেরে দেন, টেবিল গুছিয়ে দেন বা ছোটখাটো গৃহস্থালির দায়িত্ব ভাগ করে নেন, তাহলে তা শুধু কাজের চাপই কমায় না, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার বন্ধনও দৃঢ় করে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে না।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ২)। পরিবারের কল্যাণে সহযোগিতা নিঃসন্দেহে সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত। তাই গৃহিণীর কাজে সহায়তা করাও এই আয়াতের বাস্তব প্রয়োগ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘আল্লাহ বান্দার সহায়তায় থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সহায়তায় থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)। পরিবারের সদস্যও তো আমাদের সবচেয়ে আপন মানুষ। তাই তাদের কষ্ট লাঘব করা, ক্লান্তির সময় পাশে দাঁড়ানো এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
গৃহিণীর কাজে সহযোগিতা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি দায়িত্ববোধ, উত্তম চরিত্র এবং ইসলামী পারিবারিক সংস্কৃতির অংশ। যে পরিবারে সবাই একে অন্যের কাজকে নিজের দায়িত্ব মনে করে, সেখানে অভিযোগের পরিবর্তে ভালোবাসা, ক্লান্তির পরিবর্তে প্রশান্তি এবং দূরত্বের পরিবর্তে আন্তরিকতা জন্ম নেয়।
তাই ঘরের ছোট ছোট কাজকে তুচ্ছ মনে না করে এগুলোকে ইবাদতের নিয়তে সম্পন্ন করা উচিত। কারণ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা প্রতিটি বৈধ কাজই ইবাদতে পরিণত হতে পারে। পরিবারের গৃহিণীর মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোও হতে পারে এমন একটি নেক আমল, যার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে দান করবেন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
saifpas352@gmail.com




