লিফট ব্যবহারে কিছু ইসলামি আদব

প্রতীকী ছবি
লিফট এমন এক জায়গা যেখানে কয়েক সেকেন্ডের জন্য পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকে পরিচিত-অপরিচিত নানা মানুষ। কেউ অফিসে যাচ্ছেন, কেউ হাসপাতালে, কেউ কোনো প্রতিষ্ঠানে। সময়টা অল্প, কিন্তু এই অল্প সময়েও একজন মানুষের ভদ্রতা, সংযম ও অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রকাশ পেতে পারে। ইসলাম যেহেতু মানুষের জীবনের ছোট-বড় সব আচরণে শালীনতা ও সৌজন্যের শিক্ষা দেয়, তাই লিফট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ইসলামি আদবের কিছু সাধারণ নীতি প্রযোজ্য।
এক. অন্যের অধিকার ও সুবিধার প্রতি খেয়াল রাখা: লিফটের দরজা খুললেই ভেতরে থাকা মানুষকে বের হওয়ার সুযোগ না দিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়া শিষ্টাচারবিরোধী কাজ। ইসলাম মানুষের অধিকারের ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে সতর্ক করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ১০; মুসলিম, হাদিস : ৪০)। এই নীতির ব্যাপ্তি শুধু বড় ধরনের ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের চলাচলে অযথা বাধা সৃষ্টি করাও সৌজন্যের পরিপন্থী।
দুই. ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও অস্বস্তি সৃষ্টি না করা: প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জায়গা দখল করা, অন্যকে ধাক্কা দেওয়া কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কারও ব্যক্তিগত পরিসরে অস্বস্তিকরভাবে প্রবেশ করা একজন মুসলিমের শালীনতার সঙ্গে যায় না। পবিত্র কোরআনে মানুষের প্রতি উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সৎকর্ম ও আত্মীয়স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৯০)
তিন. নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে শালীনতা ও পর্দার বিধান মনে রাখা: কোনো জায়গা সংকীর্ণ হলেই ইসলামি শালীনতার বিধান শিথিল হয়ে যায় না। ইচ্ছাকৃত স্পর্শ, অশালীন দৃষ্টি কিংবা অন্যকে অস্বস্তিতে ফেলার মতো আচরণ থেকে বিরত থাকা জরুরি। লিফটে অবস্থানের সময় পাশের নারী বা পুরুষের প্রতি অহেতুক নজর দেয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। পবিত্র কোরআন মুমিন পুরুষ ও নারী উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। (সুরা নূর, আয়াত : ৩০-৩১)
চার. লিফটের ভেতর উচ্চস্বরে কথা না বলা: অশোভন আচরণ কিংবা অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে কৌতূহল দেখানো থেকেও বিরত থাকা উচিত। ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তার প্রতি সম্মান শেখায়। কারও ফোনের স্ক্রিনে উঁকি দেওয়া, ব্যক্তিগত কথোপকথন শোনা বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আলাপ জুড়ে দেওয়া। এসব একজন সচেতন মুসলিমের আচরণ হওয়া উচিত নয়।
পাঁচ. অন্যের জন্য জায়গা করে দেওয়া: কোনো বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী কিংবা শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষ লিফটে উঠতে চাইলে তাকে আগে সুযোগ দেওয়া উচিত। এটা মানবিকতারও দাবি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)।
লিফট আধুনিক জীবনের একটি যন্ত্র; এর ব্যবহার নিয়ে ইসলামে আলাদা কোনো বিধান নেই। কিন্তু লিফটে আমরা কীভাবে আচরণ করব, তা আমাদের ইসলামি চরিত্রেরই অংশ। কয়েক তলা ওঠার ক্ষুদ্র যাত্রাটিও তাই হয়ে উঠতে পারে সৌজন্য, সংযম, শালীনতা ও মানুষের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি সুযোগ।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক



