জিয়ার সন্তান ও অনুসারীদের প্রতি অধ্যাপক যাকারিয়ার আহ্বান

সংগৃহীত ছবি
জিয়াউর রহমানের সন্তান ও অনুসারীদের দীন, আকীদা ও শরিয়াহবিরোধী কোনো কাজ না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল' বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবুবকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া। একই সঙ্গে তাদের সামান্য ভুলকে বড় করে তুলে ধরে অন্যদের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টার ব্যাপারেও তিনি সতর্ক করেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টের শুরুতে জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে অধ্যাপক যাকারিয়া লেখেন, বাংলাদেশের শাসকদের মধ্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন একজন ব্যক্তি, যিনি যুগ যুগ ধরে প্রশংসিত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও হবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তার দাবি, জিয়াউর রহমান উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সংবিধানে ইসলামের পক্ষের অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও আলেম-ওলামাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখার মতো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
জিয়াউর রহমানের সঙ্গে মাদ্রাসার কৃতী শিক্ষার্থীদের সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি লেখেন, সে সময়ে মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর কামিল পর্যায়ে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমান সফর করতে পছন্দ করতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণে প্রয়াত ইসলামি চিন্তাবিদ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরও এমন একটি বিরল সম্মান পেয়েছিলেন। সেখানে তিনি আরও লেখেন, ‘যদি জিয়াউর রহমান রাহিমাহুল্লাহ ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাসন ক্ষমতায় থাকতেন হয়ত আমিও সে সুযোগটি পেয়ে যেতাম।’
অধ্যাপক যাকারিয়া আরও লেখেন, ‘জিয়ার সন্তান ও অনুসারীদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে তারা দীন, আকীদা ও শরিয়াহবিরোধী কিছু করবেন না। তাদের সামান্য ভুলকে অন্যরা বড় বানিয়ে নিজেদেরকে অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টায় ত্রুটি করবে না।’
পোস্টের পরের অংশে বর্তমানে পাস হওয়া হেবা-সংক্রান্ত আইন নিয়েও নিজের উদ্বেগের কথা জানান তিনি। তার মতে, আইনটির বাহ্যিক উদ্দেশ্য পিতা-মাতাকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর প্রবণতা রোধ করা হলেও এর সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পিতা-মাতার সম্পদ হস্তান্তর, দান, উইল এবং সন্তানদের মধ্যে সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে শরিয়াহর নীতিমালা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিশেষ করে হেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো সন্তানকে বঞ্চিত করা কিংবা শরিয়াহর মীরাস বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ধরনের আইন প্রণয়নের আগে আলেমদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক যাকারিয়া বলেন, বিষয়টিকে নিছক মানবিক মনে করে আইন করার সুযোগ নেই। তার মতে, ইসলামী শরিয়াহই মানবিকতার সর্বোচ্চ নীতি প্রদর্শন করেছে এবং এর বিরোধী কোনো ব্যবস্থা দিয়ে প্রকৃত মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
পোস্টের শেষাংশে তিনি শাসকদের দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ইসলামে একজন শাসকের প্রথম কর্তব্য হলো ‘দীন সংরক্ষণ করা’। জিয়ার সন্তান ও অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাদের সামনে নন্দিত হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা কেন নিন্দিত হওয়ার পথ বেছে নেবেন।
পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।’





