আশুরা ও মুহাররম : ফজিলত ও আমল

প্রতীকী ছবি
কোরআন ও হাদিসে এ
মাস সম্পর্কে যা এসেছে তা হল, এটা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ মাস। কোরআনের
ভাষায় এটি ‘আরবাআতুন হুরুম’-অর্থাৎ চার সম্মানিত মাসের অন্যতম। এ মাসে রোজা রাখার প্রতি
বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে
বর্ণিত এক হাদিসে নবী করীম (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর আল্লাহর মাস
মুহাররমের রোজা হল সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (সহিহ মুসলিম ২/৩৬৮; জামে তিরমিজি ১/১৫৭) এর মধ্যে আশুরার রোযার ফযীলত আরও বেশি। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)
বলেছেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে
রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ (সহিহ বুখারী ১/২১৮) আলী (রা.)-কে এক ব্যক্তি
প্রশ্ন করেছিল, রমজানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোজা
রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর
নিকট জনৈক সাহাবী করেছিলেন, তখন আমি তার খেদমতে উপস্থিত
ছিলাম। উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘রমজানের পর যদি তুমি রোজো
রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে
এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি
জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।’ (জামে তিরমিজি ১/১৫৭) অন্য হাদিসে নবী করীম (সা.)
বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ
তাআলা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’ (সহিহ মুসলিম ১/৩৬৭; জামে তিরমিজি ১/১৫৮) আশুরার রোজা সম্পর্কে এক হাদিসে আছে যে, ‘তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।’ (মুসনাদে আহমদ ১/২৪১) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে
বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোজা রাখব।’ (সহিহ মুসলিম ১/৩৫৯)
[উৎস: আলকাউসার, মুহাররাম ’৩০ হিজরী সংখ্যা থেকে গৃহীত।]




