আগামীর সময়

ঈদুল ফিতরের প্রয়োজনীয় কিছু মাসায়েল

ঈদুল ফিতরের প্রয়োজনীয় কিছু মাসায়েল

‘ঈদ’ আরবি শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ হলো খুশি, আনন্দ, অনুষ্ঠান বা বারবার ফিরে আসা। তবে মুসলিম উম্মাহর জীবনে ঈদুল ফিতর কেবল সাধারণ কোনো উৎসব নয়; বরং এটি সিয়াম সাধনার পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক বিশেষ উপলক্ষ।

ঈদের এই আনন্দকে অর্থবহ করতে শরিয়ত নির্ধারিত কিছু বিধান, সুন্নাহ ও আদব রয়েছে। ভুল পন্থায় বা গুনাহে লিপ্ত হয়ে ঈদ উদযাপন করলে সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহের ভাগীদার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ঈদের দিনটি যথাযথভাবে পালনে ফিকহি দিকগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি।

ঈদুল ফিতরের সুন্নতসমূহ
ঈদের দিন কিছু আমল সুন্নত হিসেবে প্রমাণিত, যা পালনে ঈদের সওয়াব ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
* ফজরের পর গোসল করা, মেসওয়াক করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা।
* সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা।
* ঈদুল ফিতরের নামাজে যাওয়ার আগে বেজোড় সংখ্যায় খেজুর বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়া। (বুখারি, হাদিস: ৯৫৩)
* ঈদগাহে যাওয়ার সময় নিম্নস্বরে তাকবির বলা মুস্তাহাব।
* এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা। (বুখারি, হাদিস: ৯৮৬)

বর্জনীয় ও অহেতুক কাজ
ঈদের আনন্দ বৈধ, তবে তা অবশ্যই শরিয়তের সীমার মধ্যে হতে হবে। বর্তমানে ঈদ উদযাপনে অশ্লীলতা, গান-বাজনা, বেহুদা বিনোদন, অপচয় এবং অহংকারপূর্ণ আচরণের প্রবণতা দেখা যায়, যা ইসলাম সমর্থন করে না।

এছাড়া ঈদের নামাজে অবহেলা করে কেবল দুনিয়াবি আমোদ-প্রমোদে মত্ত হওয়া মারাত্মক ভুল। খুতবা না শোনা বা অপ্রয়োজনীয় আড্ডায় সময় নষ্ট করাও অনুচিত। মনে রাখতে হবে, পাপের মাধ্যমে উদযাপন কখনোই ঈদের প্রকৃত চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মাজের আগে ও পরের করণীয়
সদকাতুল ফিতর: সামর্থ্যবানদের জন্য ঈদের নামাজের আগেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এতে দরিদ্ররাও ঈদের আনন্দে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১৬০৯)
খুতবা শ্রবণ: ঈদের নামাজ শেষে খুতবা শোনা সুন্নত। এটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে শোনা উচিত।
শুভেচ্ছা বিনিময়: নামাজ শেষে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং দোয়া (তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম) বিনিময় করা উত্তম। এতে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।

ঈদের নামাজ ও জামাতের বিধান
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ঈদের নামাজ ওয়াজিব। এটি জামাতের সঙ্গেই আদায় করতে হয়।
সময়: সূর্যোদয়ের পর (ইশরাকের সময়) থেকে শুরু করে জোহরের ওয়াক্তের আগে পর্যন্ত ঈদের নামাজের সময় থাকে।
পদ্ধতি: ঈদের নামাজ দুই রাকাত। এতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দিতে হয়। প্রথম রাকাতে সানা পড়ার পর কিরাতের আগে ৩ তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর রুকুতে যাওয়ার আগে ৩ তাকবির দিতে হয়।
একাকী নামাজ: যদি কেউ সঙ্গত কারণে জামাত না পান, তবে তিনি একাকী ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে তিনি চাইলে ঘরে চার রাকাত নফল (চাশতের নামাজ) আদায় করতে পারেন। (রদ্দুল মুহতার)
নারীদের অংশগ্রহণ: বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ফিতনার আশঙ্কা প্রবল হওয়ায় আধুনিক স্কলারগণ নারীদের ঈদগাহে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছেন। তবে শরিয়তের পর্দা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকলে কিছু আলেম এটি অনুমোদনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

পরিশেষে, আমাদের উচিত ঈদের দিনটিকে সুন্নাহসম্মতভাবে পালন করা। শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি আমল সম্পাদন করলেই আমাদের ঈদ হবে সত্যিকারের অর্থবহ ও বরকতময়।

লেখক: শিক্ষার্থী, তামিরুল মিল্লাহ কামিল মাদরাসা, টঙ্গি।

    শেয়ার করুন: