আজ পবিত্র আশুরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কারবালার যুদ্ধ। সব সমীকরণেই ছিল অসম। জয়ের ন্যূনতম কোনো আশা ছিল না। কিন্তু মাথানত করেননি হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)। বরণ করে নেন শাহাদাত।
হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার পরিবারের সদস্যরা কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে শহীদ হন।
কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার ৭২ জন সঙ্গীর মুখোমুখি হয়েছিল উমাইয়া শাসকদের চার হাজারেরও বেশি সৈন্যের বিশাল বাহিনী। তিনি এবং তার সঙ্গীদের শাহাদাত
বরণের এই ঘটনা বদলে দিয়েছিল ইতিহাসের গতিপথ। ১৩ শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ন্যায়
ও স্বাধীনতা সন্ধানীদের কাছে এখনো ইমাম হোসাইনের এই লড়াই কিংবদন্তির মতো।
৬৮০ সালের ১০ অক্টোবর, অর্থাৎ ৬১ হিজরির ১০ মহররম সংঘটিত হয়েছিল কারবালার যুদ্ধ। আজ
শুক্রবার সেই ১০ মহররম।
হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা হিসেবেও পরিচিত। আরবি ‘আশারা’ শব্দের অর্থ ১০। আর আশুরা মানে দশম। আর মহররম অর্থ সম্মানিত। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনার পাশাপাশি এই দিনটি বিশ্ব জুড়ে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়। সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা জোগায়।
মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, দান-খয়রাত ও জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন। শিয়া সম্প্রদায় তাজিয়া মিছিল বের করে। দিনটি উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। আজ সরকারি ছুটির দিন।
দিনটি উপলক্ষে আলাদা বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তাই আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের আরও নিবেদিত করি।’




