ইসলাম
সমুদ্রের নোনাজলে স্রষ্টার নিপুণ কারিগরি প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৯
প্রতীকী ছবি
পৃথিবীর দিকে তাকালে সৃষ্টিজগতের অসংখ্য বিস্ময় আমাদের দৃষ্টিকে থমকে দেয়। বিশাল পর্বতমালা ,
বিস্তীর্ণ
মরুভূমি , সবুজ
অরণ্য , নদীর
প্রবহমান
ধারা
আর
দিগন্তবিস্তৃত
সমুদ্রের
মধ্যে
ছড়িয়ে
আছে
সৃষ্টির
অপার
রহস্য।
এসবের
কোনোটি
শুধু
সৌন্দর্যের
জন্য
নয় , বরং সব কিছুই
পৃথিবীতে
প্রাণের
অস্তিত্ব
রক্ষা
এবং
প্রকৃতির
ভারসাম্য
বজায়
রাখার
ক্ষেত্রেও
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
পালন
করে। যেমন
সমুদ্রের
কথাই
ধরা
যাক।
পৃথিবীর
পৃষ্ঠের
প্রায়
৭১
শতাংশ
সমুদ্রের
পানিতে
আবৃত।
অথচ
এই
সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
বিপুল
জলরাশি
সরাসরি
পান
করার
উপযোগী
নয়।
এর
অধিকাংশ
পানিই
লবণাক্ত।
প্রশ্ন
হতে পারে, মহান আল্লাহ
চাইলে
তো
সমুদ্রের
পানিকে
মিষ্টি
করে
সৃষ্টি
করতে
পারতেন।
তাহলে
সমুদ্রের
পানি
লবণাক্ত
কেন
?
এই
লবণাক্ততার
পেছনে
কি
কোনো
প্রাকৃতিক
তাৎ
পর্য
রয়েছে
?
বিজ্ঞান
কী
বলে
?
আর
পবিত্র
কোরআনের
আলোকে
সৃষ্টিজগতের
এই
বৈশিষ্ট্য
থেকে
আমরা
কী
শিক্ষা
গ্রহণ
করতে
পারি
?
চলুন আজকের
প্রবন্ধে আমরা সেই প্রশ্নগুলোরই উত্তরের সন্ধান করি। সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা নিয়ে ভাবতে গেলে প্রথমেই উপলব্ধি করা প্রয়োজন ,
প্রকৃতির
কোনো
বৈশিষ্ট্যকে
শুধু
মানুষের
তাৎ ক্ষণিক প্রয়োজনের
মাপকাঠিতে
বিচার
করা
যথেষ্ট
নয়।
যে
পানি
সরাসরি
পান
করা
যায়
না , সেই
পানিও
পৃথিবীর
প্রাণব্যবস্থা ,
জলবায়ু , খাদ্যশৃঙ্খল
ও পানিচক্রের
জন্য
অপরিহার্য।
তাই
সমুদ্রের
লবণাক্ততাও
শুধু
পানির
একটি
রাসায়নিক
বৈশিষ্ট্য
নয় ; এটি
পৃথিবীর
দীর্ঘ
ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ,
রাসায়নিক
প্রক্রিয়া
এবং
সামুদ্রিক
পরিবেশের
সঙ্গে
গভীরভাবে
সম্পর্কিত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন ,
وَهُوَ الَّذِیْ مَرَجَ الْبَحْرَیْنِ هٰذَا
عَذْبٌ فُرَاتٌ وَّهٰذَا مِلْحٌ اُجَاجٌ
وَجَعَلَ
بَیْنَهُمَا بَرْزَخًا وَّحِجْرًا مَّحْجُوْرًا
‘ তিনিই দুই
সমুদ্রকে
প্রবাহিত
করেছেন , একটি
মিষ্টি
ও সুপেয় , অন্যটি
লবণাক্ত
ও খর।
আর
তিনি
উভয়ের
মাঝে
রেখেছেন
এক
অন্তরাল
ও দুর্ভেদ্য
আড়াল।’ ( সুরা
ফুরকান , আয়াত : ৫৩)
وَمَا یَسْتَوِی الْبَحْرٰنِ هٰذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ سَآىِٕغٌ
شَرَابُهٗ وَهٰذَا مِلْحٌ اُجَاجٌ
‘ আর দুটি
সমুদ্র
সমান
নয় ; একটি
সুমিষ্ট , তৃষ্ণা
নিবারক , পান
করা
সুস্বাদু ; আর
অন্যটি
লবণাক্ত
ও বিস্বাদ।’ ( সুরা
ফাতির , আয়াত : ১২)
আয়াতগুলোতে মিষ্টি ও লবণাক্ত পানির পার্থক্য তুলে ধরে মানুষের চিন্তা ও উপলব্ধির জন্য প্রকৃতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। কোরআনের এই বর্ণনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় ,
পানির
বৈচিত্র্য
সৃষ্টিজগতের
বাস্তবতারই
অংশ।
সমুদ্রের পানি কেন লবণাক্ত , তা বুঝতে হলে প্রকৃতির কয়েকটি সহজ প্রক্রিয়ার দিকে তাকাতে হবে। বৃষ্টির পানি মাটিতে পড়ার পর শিলা ও মাটির বিভিন্ন খনিজ উপাদান গলিয়ে সঙ্গে নিয়ে যায়। নদী সেই খনিজের কিছু অংশ সমুদ্রে পৌঁছে দেয়। এ ছাড়া সমুদ্রের তলদেশ থেকেও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ পানিতে মেশে। অন্যদিকে , সূর্যের তাপে সমুদ্রের পানি বাষ্প হয়ে আকাশে উঠে গেলেও পানিতে মিশে থাকা লবণ সমুদ্রেই থেকে যায়। এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রের পানিতে বিভিন্ন লবণ জমা হয়েছে। তবে শুধু লবণ জমা হওয়াই এর কারণ নয়। সমুদ্রের তলদেশে বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তন এবং পানিতে থাকা কিছু খনিজের তলানিতে জমে যাওয়ার মতো প্রক্রিয়াও সমুদ্রের লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
সাধারণত সমুদ্রের পানির প্রতি কেজিতে গড়ে প্রায় ৩৫ গ্রাম দ্রবীভূত লবণ থাকে। এর প্রধান অংশ সোডিয়াম ও ক্লোরাইড আয়ন ,
যা
সাধারণ
খাবার
লবণের
প্রধান
উপাদান।
তবে সমুদ্রের
সর্বত্র
লবণাক্ততা
সমান
নয়।
বৃষ্টিপাত , নদীর
মিঠাপানির
প্রবাহ , বাষ্পীভবন , বরফ
গলা
এবং
সমুদ্রস্রোতের
কারণে
একেক
অঞ্চলে
লবণের
ঘনত্ব
একেক
রকম
হয়।
অর্থাৎ , সমুদ্রের
পানি
লবণাক্ত
হলেও
সেই
লবণাক্ততার
মধ্যেও
রয়েছে
একটি
গতিশীল
প্রাকৃতিক
ভারসাম্য।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে: সমুদ্রের পানি যদি মিষ্টি হতো ,
তাহলে
কি
পৃথিবীর
প্রাণব্যবস্থা
আরও
সহজ
হতো ? এর
উত্তর
এত
সরল
নয়।
সমুদ্রের
লবণাক্ততা
সামুদ্রিক
জীবের
জন্য
একটি
গুরুত্বপূর্ণ
পরিবেশগত
শর্ত।
মাছ , প্রবাল , সামুদ্রিক
শৈবাল , প্ল্যাঙ্কটনসহ
অসংখ্য
জীব
তাদের
নিজস্ব
পরিবেশের
উপযোগী
লবণাক্ততার
মধ্যে
বসবাস
করে।
এসব
জীবের
দেহে
পানি
ও লবণের
ভারসাম্য
রক্ষার
বিশেষ
ব্যবস্থা
রয়েছে।
সমুদ্রের
লবণাক্ততা
হঠাৎ
ব্যাপকভাবে
কমে
গেলে
অনেক
সামুদ্রিক
জীবের
দেহের
স্বাভাবিক
কার্যক্রম
ব্যাহত
হতো।
বিভিন্ন
প্রজাতির
বিস্তার , খাদ্যশৃঙ্খল
এবং
সামুদ্রিক
বাস্তুতন্ত্রেও
বড়
ধরনের
পরিবর্তন
ঘটত।
তাই
সমুদ্রের
লবণাক্ততা
সামুদ্রিক
জীববৈচিত্র্য
টিকিয়ে
রাখার
গুরুত্বপূর্ণ
উপাদান।
অনেককে বলতে শোনা
যায়, সমুদ্রের পানি লবণাক্ত বলেই সেখানে নানান প্রাণীর মলমুত্র মিশেও পচে দূর্গন্ধ
হয় না। মিষ্টি পানি হলে না পচে দূষিত হয়ে নষ্ট হয়ে যেতো। তবে
এমন
ধারণা
বৈজ্ঞানিক তথ্যমতে পুরোপুরি সঠিক
নয়। সমুদ্রের লবণাক্ততা
কিছু
জীবের
বৃদ্ধি
সীমিত
করতে
পারে , কিন্তু
সমুদ্রে
অসংখ্য
অণুজীব
বাস
করে
এবং
সেখানে
জৈব
পদার্থের
পচন
ও পুনর্ব্যবহারের
প্রাকৃতিক
প্রক্রিয়া
নিয়মিত
চলতে
থাকে।
সামুদ্রিক
বাস্তুতন্ত্রের
ভারসাম্য
বজায়
থাকে
জীবাণু , শৈবাল , প্রাণী , পানির
প্রবাহ , অক্সিজেনের
সরবরাহ
এবং
পুষ্টি
উপাদানের
চক্রের
সম্মিলিত
কার্যক্রমে।
অতএব , সমুদ্রের
লবণাক্ততাকে
একমাত্র
প্রাকৃতিক
জীবাণুনাশক
বা
পচন
প্রতিরোধের
ব্যবস্থা
হিসেবে
ব্যাখ্যা
করা
সঠিক
নয়।
বরং
এর
প্রকৃত
তাৎ পর্য নিহিত
রয়েছে
সামুদ্রিক
পরিবেশের
সামগ্রিক
ভারসাম্যের
মধ্যে।
সমুদ্রের আরেকটি বিস্ময়কর অবদান হলো পৃথিবীর অক্সিজেন উৎ পাদন।
আমাদের
অনেকের
ধারণা , পৃথিবীর
অধিকাংশ
অক্সিজেন
আসে
স্থলভাগের
বনাঞ্চল
থেকে।
অথচ
সমুদ্রের
উপরিভাগে
বসবাসকারী
ক্ষুদ্র
আলোকসংশ্লেষণকারী
জীব , বিশেষত
ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ,
বৈশ্বিক
অক্সিজেন
উৎ পাদনে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
পালন
করে।
যুক্তরাষ্ট্রের
ন্যাশনাল
ওশানিক
অ্যান্ড
অ্যাটমসফেরিক
অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
( এনওএএ)
এবং
অন্যান্য
সামুদ্রিক
বিজ্ঞানবিষয়ক
প্রতিষ্ঠানের
তথ্য
অনুযায়ী , পৃথিবীর
মোট
অক্সিজেন
উৎ পাদনের আনুমানিক
অর্ধেকের
সঙ্গে
সমুদ্রের
অবদান
জড়িত।
এই
জীবগুলো
সূর্যের
আলো
ব্যবহার
করে
কার্বন
ডাই-অক্সাইড
ও পানি
থেকে
জৈব
পদার্থ
তৈরি
করে
এবং
অক্সিজেন
নিঃসরণ
করে।
তবে
অক্সিজেন
উৎ পাদনের হার
আর
পৃথিবীর
বায়ুমণ্ডলে
দীর্ঘমেয়াদে
নিট
অক্সিজেনের
পরিমাণ
বৃদ্ধি
এক
বিষয়
নয় ; উৎ পাদিত অক্সিজেনের
একটি
বড়
অংশ
জীবের
শ্বসন
ও জৈব
পদার্থের
পচন
প্রক্রিয়ায়
আবার
ব্যবহৃত
হয়।
এখানে লবণাক্ততার সঙ্গে সম্পর্কটিও গুরুত্বপূর্ণ। সামুদ্রিক ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য অণুজীব সমুদ্রের নির্দিষ্ট রাসায়নিক পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত। লবণাক্ততার পরিবর্তন তাদের প্রজাতিগত গঠন ,
বৃদ্ধি
ও বিস্তারে
প্রভাব
ফেলতে
পারে।
কিন্তু
সব
ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন
লবণাক্ত
পানিতেই
বাঁচে , এমন
নয় ; মিঠাপানিতেও
বিপুলসংখ্যক
আলোকসংশ্লেষণকারী
অণুজীব
রয়েছে।
তাই
সমুদ্রের
পানি
মিষ্টি
হলে
পৃথিবীর
সব
অক্সিজেন
উৎ পাদন বন্ধ
হয়ে
যেত , এমন
দাবি
বৈজ্ঞানিকভাবে
গ্রহণযোগ্য
নয়।
বরং
আমরা বলতে পারি ,
সমুদ্রের
বর্তমান
লবণাক্ততা
ও অন্যান্য
পরিবেশগত
বৈশিষ্ট্য
যে
সামুদ্রিক
জীবজগতকে
ধারণ
করে
রেখেছে , তা
পৃথিবীর
প্রাণব্যবস্থার
জন্য
অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
এবার সমুদ্রের পানিকে মিঠাপানিতে রূপান্তরের প্রাকৃতিক ব্যবস্থার দিকে তাকানো যাক। সূর্যের তাপে সমুদ্রের পানি বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে উঠে যায়। পানির সঙ্গে দ্রবীভূত অধিকাংশ লবণ বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে পারে না। ফলে জলীয় বাষ্পে লবণের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য থাকে। বায়ুমণ্ডলে উঠে সেই বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ক্ষুদ্র জলকণায় ঘনীভূত হয় এবং মেঘ তৈরি করে। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে সেই মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরে পড়ে। এভাবেই সমুদ্রের বিপুল লবণাক্ত পানি পৃথিবীর প্রাকৃতিক পানিচক্রের মাধ্যমে মিঠাপানির উৎ সে
পরিণত
হয়।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা
বলেছেন ,
وَاَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً طَهُوْرًا
“ আর আমি
আকাশ
থেকে
পবিত্র
পানি
বর্ষণ
করেছি।” ( সুরা
ফুরকান , আয়াত : ৪৮)
اَفَرَءَيۡتُمُ الۡمَآءَ الَّذِىۡ
تَشۡرَبُوۡنَؕ ، ءَاَنۡـتُمۡ اَنۡزَلۡـتُمُوۡهُ مِنَ الۡمُزۡنِ اَمۡ نَحۡنُ
الۡمُنۡزِلُوۡنَ
“ তোমরা যে
পানি
পান
করো , সে
সম্পর্কে
কি
তোমরা
ভেবে
দেখেছ ? তোমরা
কি
তা
মেঘ
থেকে
বর্ষণ
করো , নাকি
আমিই
বর্ষণকারী ?” ( সুরা
ওয়াকিআ , আয়াত : ৬৮-৬৯)
আয়াতগুলো মানুষকে পানির উৎ স
ও প্রাপ্তি
নিয়ে
চিন্তা
করতে
শেখায়।
আমরা
যে
পানি
পান
করি , কৃষিকাজে
ব্যবহার
করি
এবং
দৈনন্দিন
জীবন
পরিচালনা
করি , তার
পেছনে
রয়েছে
সূর্যের
শক্তি , বায়ুমণ্ডলের
গতিবিধি , মেঘের
সৃষ্টি , বৃষ্টিপাত
ও ভূগর্ভস্থ
পানির
পুনর্ভরণের
মতো
পরস্পর
সম্পর্কিত
প্রক্রিয়া।
প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া য় সমুদ্রের লবণাক্ত
পানি
থেকে
মিঠাপানি
তৈরির
মৌলিক
ব্যবস্থা ছাড়া
পৃথিবীর
জলবায়ু , নদ-নদী , কৃষি , বনভূমি
এবং
স্থলভাগের
জীবজগতের
অস্তিত্ব
কল্পনা
করা
কঠিন।
সমুদ্রের পানি যে পান করার উপযোগী নয় ,
তা
থেকে
আবার
একটি
ভিন্ন
তাৎ পর্যও উপলব্ধি
করা
যায়।
কোনো
কিছু
মানুষের
সরাসরি
ব্যবহারের
অনুপযোগী
হলেই
তা
মূল্যহীন
হয়ে
যায়
না।
সমুদ্রের
পানি
পান
করা
যায়
না , কিন্তু
তা
জলবায়ু
নিয়ন্ত্রণ
করে , বিপুল
প্রাণবৈচিত্র্যকে
আশ্রয়
দেয় , খাদ্য
ও জীবিকার
উৎ স জোগায় এবং
বৃষ্টির
মাধ্যমে
মিঠাপানির
চক্রকে
সচল
রাখে।
আল্লাহর
সৃষ্টির
উপযোগিতা
বুঝতে
হলে
তাই
কেবল
তাৎ ক্ষণিক মানবিক
প্রয়োজনের
বাইরে
গিয়ে
বৃহত্তর
ব্যবস্থাটিকে
দেখতে
হয়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমুদ্রের পানির ব্যবহার সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আবু হুরায়রা
( রা.)
থেকে
বর্ণিত , এক
ব্যক্তি
নবীজি ( সা.)-কে
জিজ্ঞেস
করলেন , আমরা
সমুদ্রপথে
চলাচল
করি
এবং
সঙ্গে
অল্প
পানি
বহন
করি।
সেই
পানি
দিয়ে
অজু
করলে
আমাদের
পান
করার
পানির
সংকট
দেখা
দেয়।
আমরা
কি
সমুদ্রের
পানি
দিয়ে
অজু
করতে
পারি ? তখন
তিনি
বলেন ,
« هُوَ
الطَّهُورُ
مَاؤُهُ،
الْحِلُّ
مَيْتَتُهُ »
“সমুদ্রের পানি পবিত্র
এবং
তার
মৃত
প্রাণী
হালাল।” ( আবু
দাউদ , হাদিস
৮৩ ; তিরমিজি , হাদিস
৬৯ ; নাসায়ি , হাদিস
৫৯)
হাদিসটি সমুদ্রের পানির একটি বাস্তব উপযোগিতা তুলে ধরে। লবণাক্ত হওয়ার কারণে সমুদ্রের পানি পান করা যায় না ,
কিন্তু
শরিয়তের
বিধান
অনুযায়ী
তা
অজু
ও পবিত্রতা
অর্জনের
জন্য
ব্যবহারযোগ্য।
একই
সঙ্গে
সমুদ্রের
হালাল
মৃত
প্রাণী
আহারের
অনুমোদন
সামুদ্রিক
খাদ্যসম্পদের
গুরুত্বও
প্রকাশ
করে।
অর্থাৎ , কোনো
কিছুর
একটি
ব্যবহার
সীমিত
হলেও
অন্য
ক্ষেত্রে
তার
উপযোগিতা
ব্যাপক
হতে
পারে।
সমুদ্রের পানি মিষ্টি না হওয়ার বিষয়টিকে স্রষ্টার নিপুণ কারিগরির আলোকে দেখতে হলে দুটি বিষয় একসঙ্গে মনে রাখতে হবে। প্রথমত ,
সমুদ্রের
লবণাক্ততার
পেছনে
রয়েছে
ব্যাখ্যাযোগ্য
ভূতাত্ত্বিক
ও রাসায়নিক
প্রক্রিয়া।
দ্বিতীয়ত , এই
বৈশিষ্ট্য
বৃহত্তর
পৃথিবীব্যবস্থার
সঙ্গে
সম্পর্কিত , যেখানে
সমুদ্রের
প্রাণবৈচিত্র্য ,
জলবায়ু , পানিচক্র
ও মানুষের
জীবন
পরস্পরের
সঙ্গে
যুক্ত।
একজন
মুমিনের কাছে প্রকৃতির এই
নিয়মতান্ত্রিকতা
স্রষ্টার
প্রজ্ঞা
ও সৃষ্টির
প্রতি
তাঁর
অনুগ্রহ
নিয়ে
চিন্তার বড়
উপলক্ষ।
আর
বিজ্ঞান
আমাদের
শেখায় , সেই
প্রাকৃতিক
নিয়মগুলো
কীভাবে
কাজ
করে , তার
ব্যাখ্যা
অনুসন্ধান
করতে
হয়
পর্যবেক্ষণ ,
পরীক্ষা
ও প্রমাণের
ভিত্তিতে।
আমরা সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে যখন নোনা পানির বিশালতা দেখি ,
তখন
হয়তো
শুধু
তার
অপার
সৌন্দর্যই
চোখে
পড়ে।
কিন্তু
একটু
গভীরভাবে
ভাবলে
বোঝা
যায় , যে
পানি
সরাসরি
আমাদের
তৃষ্ণা
মেটাতে
পারে
না , সেই
পানিই
পৃথিবীর
জলবায়ু
ও জীববৈচিত্র্যের
গুরুত্বপূর্ণ
ধারক।
সেই
সমুদ্র
থেকেই
বাষ্প
উঠে
মেঘ
তৈরি
করে , মেঘ
থেকে
বৃষ্টি
নামে , আর
বৃষ্টির
পানিতে
সজীব
হয়
নদী , ফসলের
মাঠ , অরণ্য
ও জনপদ।
প্রকৃতির
এই
ধারাবাহিকতা
আমাদের
শেখায় , কোনো
সৃষ্টির
তাৎ পর্য বুঝতে
হলে
তাকে
বিচ্ছিন্নভাবে
নয় , সামগ্রিক
ব্যবস্থার
অংশ
হিসেবে
দেখতে
হয়।
তাই সমুদ্রের পানি মিষ্টি না হওয়া শুধূ একটি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নয় ;
এটি
সৃষ্টির
জটিলতা , ভারসাম্য
ও পারস্পরিক
নির্ভরতার
কথা
ভাবার
এক
অনন্য
উপলক্ষ।
কোরআনের
ভাষায় , সৃষ্টিজগতে
রয়েছে
চিন্তাশীল
মানুষের
জন্য
নিদর্শন।
সেই
নিদর্শন
উপলব্ধির
প্রকৃত
পথ
হলো
জ্ঞান
দিয়ে
প্রকৃতিকে
জানা , বিশ্বাস
দিয়ে
তার
তাৎ পর্য অনুধাবন
করা
এবং
কৃতজ্ঞতা
দিয়ে
স্রষ্টার
অনুগ্রহের
মর্যাদা
দেওয়া।