কোরআনের বাণী
কৃপণতা ও অপচয় দুটিই পরিহার্য

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পবিত্র কোরআনের বাণী
সুরা : বাণী ইসরাঈল, আয়াত : ২৯
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়াবান আল্লাহর নামে
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَىٰ عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ ٱلْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَّحْسُورًا
২৯. আর তুমি তোমার হাত গলায় বেঁধে রেখো না এবং তা সম্পূর্ণরূপে মেলেও দিও না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও আফসোসকৃত হয়ে বসে পড়বে।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের অর্থ-সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও সংযম অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। ‘হাত গলায় বেঁধে রাখা’ কথাটি রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃপণতা বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় জায়গায় ব্যয় না করা, নিজের ও পরিবারের ন্যায্য প্রয়োজন পূরণে কার্পণ্য করা কিংবা আল্লাহর পথে ব্যয় করতে অনীহা দেখানো মুমিনের কাম্য নয়। অন্যদিকে ‘সম্পূর্ণরূপে হাত মেলে দেওয়া’ দ্বারা বোঝানো হয়েছে অপচয়, অপব্যয় ও লাগামহীন খরচ। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করে সম্পদ নিঃশেষ করে ফেলাও ইসলামের শিক্ষা নয়।
ইসলাম সম্পদকে নিষিদ্ধ করেনি; বরং সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও পরিমিতিবোধ শিক্ষা দিয়েছে। নিজের প্রয়োজন পূরণ, পরিবারের অধিকার আদায়, আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের সহযোগিতা এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। কৃপণতা যেমন মানুষের জীবনকে সংকীর্ণ করে, তেমনি অপচয় মানুষকে আর্থিক সংকট ও অনুশোচনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই মুমিনের অর্থব্যয়ের নীতি হবে কৃপণতা ও অপচয়ের মাঝামাঝি ভারসাম্যপূর্ণ পথ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না এবং কৃপণতাও করে না; বরং এ দুয়ের মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকে।’ (সুরা আল-ফুরকান, আয়াত : ৬৭)
আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, এমন ভারসাম্যহীন ব্যয়ের পরিণতিতে মানুষ তিরস্কৃত ও আফসোসকৃত হয়ে বসে পড়বে। অর্থাৎ কৃপণতার কারণে যেমন মানুষের নিন্দা ও অসন্তোষের শিকার হতে হয়, তেমনি অমিতব্যয়িতার কারণে সম্পদ শেষ হয়ে গেলে নিজেকেই অনুতপ্ত হতে হয়। সুতরাং একজন মুমিনের জীবনে সম্পদ ব্যয়ের আদর্শ হলো প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয়, দায়িত্ব অনুযায়ী দান এবং অপচয় থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা।






