নামাজে হাসির তিন ধরন ও তার বিধান

প্রতীকী ছবি
প্রশ্ন:
নামাজ আদায় করার সময় অনেক ক্ষেত্রে এমন কিছু বিষয় বা কথা সামনে আসে যার কারণে কেউ কেউ হেসে দেয়। সেটা ঘরের নামজে হোক বা মসজিদের জামাতের নামাজে হোক। যদি হাসি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে নামাজ ও অজুর বিধান কি হবে?
-মুস্তাকিম বিল্লাহ, গাজিপুর।
উত্তর :
প্রশ্নমতে নামাজ বা অজুর বিধান জানার আগে হাসির একটি বিবরণ জানা আবশ্যক।
ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে-
(وَمِنْهَا الْقَهْقَهَةُ) وَحَدُّ الْقَهْقَهَةِ أَنْ يَكُونَ مَسْمُوعًا لَهُ وَلِجِيرَانِهِ وَالضَّحِكُ أَنْ يَكُونَ مَسْمُوعًا لَهُ وَلَا يَكُونُ مَسْمُوعًا لِجِيرَانِهِ وَالتَّبَسُّمُ أَنْ لَا يَكُونَ مَسْمُوعًا لَهُ وَلَا لِجِيرَانِهِ. كَذَا فِي الذَّخِيرَةِ الْقَهْقَهَةُ فِي كُلِّ صَلَاةٍ فِيهَا رُكُوعٌ وَسُجُودٌ تَنْقُضُ الصَّلَاةَ وَالْوُضُوءَ عِنْدَنَا. كَذَا فِي الْمُحِيطِ سَوَاءٌ كَانَتْ عَمْدًا أَوْ نِسْيَانًا كَذَا فِي الْخُلَاصَةِ
وَلَا تَنْقُضُ الطَّهَارَةَ خَارِجَ الصَّلَاةِ وَالضَّحِكُ يُبْطِلُ الصَّلَاةَ وَلَا يُبْطِلُ الطَّهَارَةَ وَالتَّبَسُّمُ لَا يُبْطِلُ الصَّلَاةَ وَلَا الطَّهَارَةَ
হাসি তিন প্রকার। যথা-
(এক) কাহক্বা হাসি: যা সে নিজেও শুনবে এবং তার প্রতিবেশীরাও শুনবে।
(দুই) দ্বিহক হাসি: যা সে নিজে শুনবে, তবে তার প্রতিবেশীরা শুনবে না।
(তিন) তাবাস্সুম হাসি: যা সে নিজেও শুনবে না এবং প্রতিবেশীরা ও শুনবে না।
এবার চলুন নামজে হাসির বিধান দেখি-
আমাদের মাজহাব মতে প্রত্যেক রুকু-সেজদাবিশিষ্ট নামাজের ভেতর যদি কেউ হাসে আর সেটি কাহক্বা হাসি হয়। তাহলে সেই হাসিতে নামাজ এবং অজু উভয়টি নষ্ট করে দেয়। হাসি ইচ্ছা করে হাসুক বা অনিচ্ছায় হাসুক। তবে কাহক্বা হাসি নামাজের বাইরে হলে অজু নষ্ট হবে না।
আর নামাজের ভেতর দ্বিহক হাসি হাসলে নামাজকে নষ্ট করে দিলেও অজুকে নষ্ট করবে না।
আর তাবাস্সুম নামাজ এবং অজু কিছুকেই নষ্ট করবে না।
-(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া;১/১২)
হাদিসে এসেছে, আনাস (রা.) বলেছেন,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُصَلِّي بِنَا ، فَجَاءَ رَجُلٌ ضَرِيرُ الْبَصَرِ ، فَوَطِئَ فِي خَبَالٍ مِنَ الْأَرْضِ ، فَصُرِعَ ، فَضَحِكَ بَعْضُ الْقَوْمِ ، فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ ضَحِكَ أَنْ يُعِيدَ الْوُضُوءَ وَالصَّلَاةَ
রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে নিয়ে নামাজ পড়ছিলেন। তখন এক অন্ধ ব্যক্তি এসে পিচ্ছিল মাটিতে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। তাতে কিছু লোক হেসে দিল (নামাজরত অবস্থায়)। যারা হেসেছিল রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে পুনরায় অজু করে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিলেন। (দারাকুতনি, হাদিস: ৫৮০)
ইবনু কুদামা (রহ.) বলেছেন,
وإن ضحك فبان حرفان : فسدت صلاته ، وكذلك إن قهقه ولم يكن حرفان ، وبهذا قال جابر بن عبد الله وعطاء ومجاهد والحسن وقتادة والنخعي والأوزاعي والشافعي وأصحاب الرأي ، ولا نعلم فيه مخالفا
যদি এমনভাবে হাসে যে, দুই শব্দ প্রকাশ পেয়েছে, অনুরূপভাবে যদি অট্টহাসি দেয় তখন দুই শব্দ প্রকাশ না পেলেও– তার নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। সাহাবি জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাযি. তাবিয়ী আতা রহ. মুজাহিদ রহ. হাসান রহ. কাতাদা রহ. ইবরাহীম নাখয়ী রহ. ও আওযায়ী রহ. শাফিঈ রহ. প্রমুখ এমনটি বলেছেন। এ ব্যাপারে কেউ বিরোধিতা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই।
-(আলমুগনি ১/৭৪১)



