যে নামাজের সুবাসে বদলে যায় জীবন

প্রতীকী ছবি
সুবাসের একটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো; তা নিজেকে গোপন রাখতে পারে না। অদৃশ্য হয়েও চারপাশকে মুগ্ধ করে। ঠিক তেমনি একজন মুমিনের বিশুদ্ধ নামাজও নিঃশব্দে তার চরিত্র, আচরণ ও কর্মে এমন এক সৌরভ ছড়িয়ে দেয়; যা পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। তাই প্রকৃত নামাজের পরিচয় শুধু মসজিদে নয়, মানুষের সঙ্গে তার ব্যবহার, আমানতদারি, সততা ও নৈতিকতায়ও প্রকাশ পায়।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)। এই আয়াত শুধু নামাজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে। যদি সালাত মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি জাগিয়ে তোলে, তবে তার হাত অন্যায়ে বাড়বে না, জিহ্বা মিথ্যা বলবে না এবং হৃদয় হিংসা-বিদ্বেষে কলুষিত হবে না। এমন নামাজই মানুষের জীবনকে বদলে দেয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো দুশ্চিন্তা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মুখোমুখি হতেন, তখন তিনি নামাজের আশ্রয় নিতেন (আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)। তিনি এক হাদিসে বলেছেন, ‘আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে নামাজে।’ (আন-নাসায়ি, হাদিস: ৩৯৪০)। এতে বোঝা যায়, নামাজ ছিল তাঁর আত্মিক প্রশান্তি, মানসিক শক্তি এবং রবের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের মাধ্যম। আজও যে ব্যক্তি খুশু-খুজুর সঙ্গে নামাজ আদায় করে, সে জীবনের ঝড়-ঝঞ্ঝার মাঝেও অন্তরের শান্তির ঠিকানা খুঁজে পায়।
নামাজ মানুষকে শুধু আল্লাহর সঙ্গে নয়, মানুষের সঙ্গেও সম্পর্ক সুন্দর করতে শেখায়। জামাতে নামাজ ধনী-গরিব, শাসক-শাসিত ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি করে। সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় একজন মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা এবং দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়। এ কারণেই ইসলামি স্কলারগণ বলেছেন, যার নামাজ সুন্দর, তার জীবনও সুন্দর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) মাদারিজুস সালিকীন গ্রন্থে লিখেছেন, নামাজ হলো অন্তরের জীবন, আত্মার খাদ্য এবং ঈমানের শক্তিকে নবায়ন করার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আর ইমাম গাজালি (রহ.) ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন-এ উল্লেখ করেছেন, যে নামাজে হৃদয়ের উপস্থিতি নেই, তা দেহের একটি অভ্যাসে পরিণত হয়; কিন্তু খুশুসমৃদ্ধ নামাজ মানুষের আত্মাকে জাগ্রত করে।
আজকের পৃথিবীতে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ততা ও নৈতিক সংকটের ভিড়ে মানুষ ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। এমন সময় নামাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত সফলতা সম্পদে নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিতে। তাই যে নামাজ মানুষকে স্রষ্টার প্রতি অনুগত, মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল এবং নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকতে শেখায়, সেই নামাজের সুবাস কখনো ম্লান হয় না। তার সৌরভে বদলে যায় ব্যক্তি, আলোকিত হয় পরিবার এবং নির্মিত হয় একটি নৈতিক সমাজ।
লেখক : তরুণ আলেম ও লেখক



