ইবাদতের স্বাদ বৃদ্ধির কিছু উপায় (প্রথম পর্ব)

প্রতীকী ছবি
ইবাদত শুধু কিছু আনুষ্ঠানিক আমলের নাম নয়; ইবাদত হলো বান্দার অন্তর, চিন্তা, অনুভূতি ও কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার এক অনন্য পথ। নামাজে দাঁড়িয়ে চোখে পানি আসে, কোরআন তিলাওয়াত করতে হৃদয় নরম হয়ে যায়, দোয়ার সময় নিজের অসহায়ত্ব অনুভূত হয়, সিজদায় গিয়ে মনে হয় পৃথিবীর সব কোলাহল থেকে দূরে এসে পরম আশ্রয়ের কাছে পৌঁছে গেছি—এটাই ইবাদতের স্বাদ। তবে এই অনুভূতি সবার মধ্যে সবসময় সমান থাকে না। কখনো ইবাদতে গভীর প্রশান্তি অনুভূত হয়, আবার কখনো নামাজ, তিলাওয়াত কিংবা জিকিরও যেন কেবল অভ্যাসের কাজ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ইবাদতে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন অন্তরের কিছু পরিচর্যা। আজকের প্রবন্ধে আমি সেগুলোর কয়েকটি নিয়ে আলোচনার সর্বান্তকরণ চেষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ
আল্লাহর পরিচয় ও মহত্ত্ব
উপলব্ধি
ইবাদতের স্বাদ বৃদ্ধির প্রথম উপায় হলো আল্লাহকে জানা। মানুষ যাঁকে যত বেশি ভালোবাসে, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তাঁর স্মরণ তত বেশি আনন্দদায়ক হয়। আল্লাহর পরিচয়, তাঁর নাম, গুণাবলি ও ক্ষমতা নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ, আয়াত : ২৮)
আল্লাহর রহমত, ক্ষমা, দয়া ও মহত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করলে ইবাদত কেবল দায়িত্ব পালন থাকে না, বরং প্রিয় রবের নৈকট্য লাভের আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়। আর আল্লাহর শাস্তি ও জবাবদিহির কথা স্মরণ করলে ইবাদতে আসে ভয় ও সতর্কতা। ভালোবাসা, আশা ও ভয়, এই তিন অনুভূতির ভারসাম্য ইবাদতকে গভীর করে।
অর্থ বোঝান চেষ্ঠা করা
অনেক সময় ইবাদতে একাগ্রতা না আসার কারণ এটিও হয় যে, আমরা যে দোয়া পড়ছি বা যে আয়াত তিলাওয়াত করছি তার অর্থই জানি না। নামাজে যে সূরা পড়ছি তার বক্তব্য যদি হৃদয় বুঝতে পারে, তাহলে নামাজের সঙ্গে সম্পর্কও বদলে যায়।
নামাজ মূলত আল্লাহর সঙ্গে বান্দার একান্ত কথোপকথন, এই উপলব্ধি নামাজের অনুভূতিকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। তাই নামাজের সূরা, তাসবিহ, তাহলিল ও দোয়াগুলোর অর্থ শেখা ইবাদতের স্বাদ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ইখলাস বা একনিষ্ঠতা অর্জন
ইবাদতের বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অন্তরের নিয়ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যদি মানুষের প্রশংসার জন্য ইবাদত করে, তাহলে তার অন্তরে ইবাদতের প্রকৃত স্বাদ জন্ম নেয় না। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তাদের এ ছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে তাঁর জন্য দ্বিনকে একনিষ্ঠ করে।’ (সুরা বাইয়িনাহ, আয়াত : ৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (বুখারি, হাদিস: ১; মুসলিম, হাদিস: ১৯০৭)
তাই নামাজের আগে নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার: আমি কার জন্য দাঁড়াচ্ছি? কোরআন পড়ার আগে মনে করা দরকার: আমি কার কালাম পড়ছি? এই আত্মজিজ্ঞাসা ইবাদতকে লোকদেখানো অভ্যাস থেকে আল্লাহমুখী সাধনায় পরিণত করে।
(চলবে ইনশাআল্লাহ)





