ইবাদতের স্বাদ বৃদ্ধির কিছু উপায় (দ্বিতীয় পর্ব)

প্রতীকী ছবি
ইবাদত শুধু কিছু আনুষ্ঠানিক আমলের নাম নয়; ইবাদত হলো বান্দার অন্তর, চিন্তা, অনুভূতি ও কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার এক অনন্য পথ। নামাজে দাঁড়িয়ে চোখে পানি আসে, কোরআন তিলাওয়াত করতে হৃদয় নরম হয়ে যায়, দোয়ার সময় নিজের অসহায়ত্ব অনুভূত হয়, সিজদায় গিয়ে মনে হয় পৃথিবীর সব কোলাহল থেকে দূরে এসে পরম আশ্রয়ের কাছে পৌঁছে গেছি—এটাই ইবাদতের স্বাদ। তবে এই অনুভূতি সবার মধ্যে সবসময় সমান থাকে না। কখনো ইবাদতে গভীর প্রশান্তি অনুভূত হয়, আবার কখনো নামাজ, তিলাওয়াত কিংবা জিকিরও যেন কেবল অভ্যাসের কাজ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ইবাদতে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন অন্তরের কিছু পরিচর্যা। আজকের প্রবন্ধে আমি সেগুলোর কয়েকটি নিয়ে আলোচনার সর্বান্তকরণ চেষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ
(প্রথম পর্বের পর)
গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
ইবাদতের স্বাদ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো গুনাহ। গুনাহ অন্তরকে ভারী করে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘কখনো নয়; বরং তাদের কৃতকর্ম তাদের অন্তরে মরিচা ধরিয়েছে।’ (সুরা মুতাফফিফিন, আয়াত : ১৪)
তাই ইবাদতে আনন্দ না পেলে শুধু বেশি বেশি নফল আমল করার চেষ্টা না করে নিজের জীবনও পর্যালোচনা করা দরকার। চোখ কী দেখছে, কান কী শুনছে, জিহ্বা কী বলছে, উপার্জন কতটা হালাল, মানুষের হক নষ্ট হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও দেখতে হবে। তাওবা ও ইস্তিগফার অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার শক্তিশালী মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই প্রতিদিন বহুবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন। (বুখারি, হাদিস: ৬৩০৭)
কোরআনের সঙ্গে গভীর
সম্পর্ক গড়ে তোলা
পবিত্র কোরআন শুধু তিলাওয়াতের গ্রন্থ নয়; এটি হৃদয়ের চিকিৎসা। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি কোরআন নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।’ (সুরা ইসরা, আয়াত : ৮২)
প্রতিদিন অল্প হলেও অর্থ বুঝে কোরআন পড়া, একটি আয়াত নিয়ে চিন্তা করা এবং নিজের জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুঁজে দেখা উচিত। কখনো কখনো একটি আয়াতও মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার মতো গভীর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। কোরআনের সঙ্গে যত বেশি হৃদয়ের সম্পর্ক তৈরি হবে, ইবাদতের জগতও তত বেশি জীবন্ত হয়ে উঠবে।
নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করা
মানুষের সামনে ইবাদত করা সহজ হতে পারে, কিন্তু একাকী অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা অন্তরের সত্যতা প্রকাশ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন, যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে তার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। (বুখারি, হাদিস: ৬৬০)
আমল অল্প হলেও তা নিয়মিত করা
ইবাদতের স্বাদ পাওয়ার জন্য একদিন প্রচুর আমল করে পরদিন সব ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। বরং অল্প হলেও নিয়মিত আমল করা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৪৬৫; মুসলিম, হাদিস: ৭৮৩)
প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কোরআন, জিকির, ইস্তিগফার, দরুদ কিংবা নফল নামাজের অভ্যাস তৈরি করা তাই অধিক ফলপ্রসূ। ধারাবাহিকতা হৃদয়ে স্থিরতা তৈরি করে।







