আরাফার দিনে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন

সংগৃহীত ছবি
জিলহজের প্রথম দশক মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সময়। আর এ দশকের শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোর একটি হলো পবিত্র আরাফার দিন। হজের মূল রুকন ‘উকুফে আরাফা’ এদিনেই আদায় করা হয়। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আগত লাখো হাজি আজ আরাফার বিশাল ময়দানে সাদা ইহরামে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তওবা, ইস্তিগফার ও দোয়ায় মশগুল থাকেন।
আরাফার দিন শুধু হাজিদের জন্য নয়, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্যই এক মহামহিমান্বিত দিন। এটি দোয়া কবুলের দিন, গুনাহ মাফের দিন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। এদিনের ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এদিনে বিশেষ কিছু দোয়া ও জিকির বেশি বেশি পাঠ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তার মধ্যে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ জিকিরগুলোর একটি হলো তাওহিদের এই মহান ঘোষণা, যা নবী-রাসুলগণও পাঠ করেছেন। দোয়াটি হলো—
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদির।
অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। সকল রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই। তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ‘সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া। আর আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যে সর্বোত্তম বাক্য বলেছি তা হলো— ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর; তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৮৫)
আরাফার দিন আমাদের জন্য আত্মশুদ্ধি, আত্মসমালোচনা ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক অপূর্ব সুযোগ। এদিনে বান্দার আন্তরিক তওবা, অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা এবং বিনয়ী হৃদয় আল্লাহর রহমতকে আকর্ষণ করে। তাই এদিনের প্রতিটি মুহূর্ত দোয়া, জিকির, তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করা উচিত।
আল্লাহতাআলা আমাদের সবাইকে আরাফার দিনের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত দ্বারা ধন্য করুন এবং এই মহান জিকিরের মাধ্যমে আমাদের অন্তরকে ইমানের আলোয় আলোকিত করুন। আমিন।






