চলতি বছর তাকবিরে তাশরিকের শুরু ও শেষের সময়

প্রতীকী ছবি
পবিত্র জিলহজ মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদত, তাকওয়া ও আল্লাহর স্মরণে ভরপুর এক মহিমান্বিত সময়। এ মাসের প্রথম দশক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। আর এ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ‘তাকবিরে তাশরিক’। ফরজ নামাজের পর এ তাকবির পাঠের মাধ্যমে মুসলিমগণ আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা ঘোষণা করে থাকেন।
নিয়ম অনুযায়ী জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজের পর থেকে তাকবিরে তাশরিক শুরু হবে এবং ১৩ জিলহজ আসরের নামাজ পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়তে হবে। সে হিসেবে চলতি বছর বাংলাদেশে তাকবিরে তাশরিক পড়ার সময় হবে ২৭ মে ফজর থেকে ৩১ মে আসর পর্যন্ত।
তাকবিরে তাশরিক হলো—
اللّٰهُ أَكْبَرُ اللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ (আল-হিদায়া, ১/২৭৫)
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন—
وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ
‘যেন তারা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে।’ (সুরা হজ, আয়াত : ২৮)
প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এখানে ‘আইয়ামে মালুমাত’ বলতে জিলহজের নির্দিষ্ট দিনসমূহ এবং আল্লাহর স্মরণ বলতে তাকবিরে তাশরিক বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে তাবারি, ১৭/১২৭)
হাদিসে এ আমলের ফজিলতও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— ‘এ দিনগুলোতে আল্লাহর কাছে নেক আমল অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় অধিক প্রিয়।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?’ তিনি বলেন, ‘জিহাদও নয়। তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত, যে নিজের জীবন ও সম্পদ নিয়ে বের হলো এবং কিছুই নিয়ে ফিরে এলো না।’ (বুখারি, হাদিস : ৯৬৯)
ফকিহগণ বলেছেন, জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। পুরুষরা তা উচ্চস্বরে পড়বে। তবে নারীরা নিচু স্বরে পড়বে, যেন নিজে শুনতে পারে। (রদ্দুল মুহতার, ২/১৭৮)
জামাতে নামাজ আদায় করা হোক বা একাকী, ওয়াক্তে পড়া হোক বা কাজা, মুকিম হোক বা মুসাফির, শহরে বা গ্রামে অবস্থানকারী হোক, সবার জন্য এ আমল প্রযোজ্য। (দুররে মুখতার, ২/১৮০)
যদি কেউ ভুলে তাকবির না পড়ে, তাহলে স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পড়ে নেবে। তবে নামাজের স্থান ত্যাগ করা, কথা বলা বা নামাজবিরোধী অন্য কাজে লিপ্ত হয়ে গেলে তখন আর তা আদায় করতে হবে না; বরং ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার জন্য তওবা ও ইস্তিগফার করবে। (রদ্দুল মুহতার, ৬/১৭৯)
তাকবিরে তাশরিক শুধু মুখের উচ্চারণ নয়; বরং এটি মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর মহত্ত্ব জাগ্রত করার এক মহান শিক্ষা। কোরবানির এ দিনগুলোয় মানুষ যখন দুনিয়াবি ব্যস্ততার মধ্যেও বারবার ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি উচ্চারণ করে, তখন তার হৃদয়ে সৃষ্টি হয় আল্লাহভীতি, বিনয় ও ইবাদতের অনুভূতি।
তাই চলতি বছরের এ বরকতময় দিনগুলোয় আমাদের উচিত, ফরজ নামাজের পর নিয়মিত তাকবিরে তাশরিক আদায় করা এবং পরিবার-পরিজনকেও এ আমলের প্রতি উৎসাহিত করা।






