কিয়ামতের ময়দানে সাত সৌভাগ্যবান

প্রতীকী ছবি
কিয়ামতের দিন হবে মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও ভীতিকর দিন। সেদিন পৃথিবীর পরিচিত কোনো আশ্রয় থাকবে না, থাকবে না সম্পদ, ক্ষমতা, পরিচয় কিংবা প্রভাবের নিরাপত্তা। সূর্য মানুষের খুব কাছে চলে আসবে এবং মানুষ নিজ নিজ আমল অনুযায়ী কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। সেই ভয়াবহ দিনে মানুষ একটি নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবে। আর সেই দিন যাদের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমতের দরজা খুলে যাবে, তারা হবে পরম সৌভাগ্যবান। মহানবী (সা.) এমন সাত শ্রেণির মানুষের কথা জানিয়েছেন, যাদের আল্লাহ তাআলা তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই সাতটি আমলের জন্য মানুষের বিশেষ কোনো সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা কিংবা অসাধারণ ক্ষমতার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন একটি আল্লাহভীরু হৃদয়, সৎ চরিত্র এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের লক্ষ্য বানানোর মানসিকতা। হাদিসটি হচ্ছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمْ اللهُ تَعَالَى فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ إِمَامٌ عَدْلٌ وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللهِ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ وَرَجُلاَنِ تَحَابَّا فِي اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ
আবু
হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন,
যেদিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না; সেদিন আল্লাহ তাআলা সাত
প্রকার মানুষকে সে ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।
(১) ন্যায়পরায়ণ শাসক।
(২) যে যুবক আল্লাহর ইবাদতের ভেতর গড়ে উঠেছে।
(৩) যার অন্তরের সম্পর্ক সর্বদা মসজিদের সঙ্গে থাকে।
(৪) আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে যে দুই ব্যক্তি পরস্পর মহব্বত
রাখে, উভয়ে একত্রিত হয় সেই মহব্বতের ওপর আর পৃথক হয় সেই মহব্বতের
ওপর।
(৫) এমন ব্যক্তি যাকে সম্ভ্রান্ত সুন্দরী নারী (অবৈধ মিলনের
জন্য) আহ্বান জানিয়েছে। তখন সে বলেছে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।
(৬) যে ব্যক্তি গোপনে এমনভাবে সাদাকা করে যে তার ডান হাত যা দান করে বাম হাত তা জানতে পারে না।
(৭) যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাতে আল্লাহর
ভয়ে তার চোখ হতে অশ্রু বের হয়ে পড়ে। (বুখারি, হাদিস : ১৪২৩)
তাই আসুন, আমরা হাদিসের এই সাতটি গুণকে নিজেদের জীবনের আয়নায় একবার দেখে নিই। আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার কতটুকু, যৌবন কীভাবে কাটছে, মসজিদের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক কেমন, আল্লাহর জন্য আমাদের ভালোবাসা কতটা নির্মল, গোপনে গুনাহের সুযোগ এলে আমরা কতটা আল্লাহকে ভয় করি, আমাদের দান কতটা লোকদেখানো থেকে মুক্ত এবং নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করলে আমাদের হৃদয় কতটা নরম হয়। আজ থেকেই আমরা অন্তত একটি গুণ নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করি এবং ধীরে ধীরে বাকি গুণগুলোও অর্জন করি। কারণ দুনিয়ার ছায়া একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু কিয়ামতের সেই কঠিন দিনে আল্লাহর বিশেষ আশ্রয়ই হবে প্রকৃত নিরাপত্তা।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই ভয়াবহ দিনের একমাত্র আশ্রয়স্থল নসিব হওয়ার মতো জীবন গঠন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক



