আগামীর সময়

অতিথি আপ্যায়নের সওয়াব

অতিথি আপ্যায়নের সওয়াব

সংগৃহীত ছবি

অতিথি আপ্যায়ন ইসলামের অন্যতম সুন্দর ও মহৎ শিক্ষা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে অতিথি আপ্যায়ন করতেন এবং সাহাবিদেরও এ বিষয়ে উৎসাহিত করতেন। অতিথি আপ্যায়নের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হয়। সমাজে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়।

হজরত ইবরাহিম (আ.) ছিলেন অতিথিপরায়ণতার অনন্য উদাহরণ। তিনি নিয়মিত মেহমানদারি করতেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘আমার ফেরেশতারা (ছেলেসন্তানের) সুসংবাদ নিয়ে ইবরাহিমের কাছে এল। তারা বলল, সালাম। সেও বলল, সালাম। অতঃপর ইবরাহিম দ্রুতই ভুনা করা গোশত নিয়ে এল।’ (সুরা হুদ, আয়াত: ৬৯)

অতিথিকে স্বাগত জানানো

মেজবানের দায়িত্ব হলো অতিথিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো এবং তার আগমনে আনন্দ প্রকাশ করা। মহানবী (সা.)-এর কাছে যখন কোনো অতিথি বা প্রতিনিধি দল আসত, তিনি তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল এলে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এই প্রতিনিধি দলের প্রতি মারহাবা—যারা লাঞ্ছিত বা লজ্জিত হয়ে আসেনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৭৬)

অতিথির প্রতি সদাচরণ

প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব হলো অতিথির সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা, হাসিমুখে কথা বলা এবং তার প্রয়োজনের খেয়াল রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহ ও পরকাল বিশ্বাস করে, সে যেন মেহমানের সঙ্গে উত্তম আচরণ করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৭)

অতিথিসেবার ফজিলত

মহানবী (সা.) সর্বদা অতিথিসেবায় অগ্রগণ্য ছিলেন। নিজের ঘরে খাবার না থাকলেও তিনি অতিথির ব্যবস্থা করে দিতেন। হেরা গুহা থেকে ফিরে আসার পর খাদিজা (রা.) তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমানিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, অসহায়দের সাহায্য করেন, অভাবীদের সহায়তা করেন এবং অতিথি আপ্যায়ন করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩)

অতিথিসেবায় রয়েছে অশেষ সওয়াব। এতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন এবং ঘরে বরকত দান করেন। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়, সেখানে বরকত খুব দ্রুত প্রবেশ করে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)

মহানবী (সা.) আরও বলেন, ‘যে মেহমানদারি করে না, তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।’ (মুসনাদে আহমাদ)

কতদিন মেহমানদারি করা উচিত

ইসলামে অতিথি আপ্যায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। একদিন ও একরাত অতিথির জন্য উত্তমভাবে আপ্যায়ন করা ওয়াজিব। তিনদিন তিনরাত পর্যন্ত সাধারণভাবে আপ্যায়ন করা সুন্নত। এর বেশি হলে তা সদকার অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মেহমানের সম্মান একদিন ও একরাত, আর সাধারণ মেহমানদারি তিনদিন ও তিনরাত। এরপর তা সদকা। তবে মেজবানের কষ্টের কারণ হয়ে থাকা বৈধ নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৩৫)

অতিথি আপ্যায়ন শুধু সামাজিক রীতি নয়, বরং এটি ইমান ও নৈতিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব হয়।

    শেয়ার করুন: