তাওবার দরজা কখনো বন্ধ হয় না
- তাওবায় বদলে যেতে পারে জীবন

প্রতীকী ছবি
মানুষ ভুল করবে, পাপে জড়াবে, আবার অনুতপ্তও হবে, এটাই মানবজীবনের বাস্তবতা। ইসলাম মানুষের এই দুর্বলতাকে অস্বীকার করেনি; বরং পাপ থেকে ফিরে আসার জন্য উন্মুক্ত রেখেছে তাওবার দরজা। তাই কোনো মানুষ যত বড় গুনাহই করে থাকুক না কেন, আন্তরিক অনুতাপ ও সংশোধনের সংকল্প নিয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে এলে তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন। তিনি তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা যুমার, আয়াত : ৫৩)। ইসলামে আশা ও ক্ষমার এ ঘোষণাকে তাওবার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
আরেক আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তিনি তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন, পাপসমূহ ক্ষমা করেন এবং তোমরা যা করো তা তিনি জানেন।’ (সুরা শুরা, আয়াত : ২৫)। অর্থাৎ, তাওবা শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মানুষকে নৈতিকভাবে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক আদমসন্তানই ভুলকারী, আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা তাওবা করে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৯৯)। এই হাদিস স্পষ্ট করে যে, ইসলামে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় কেবল তার ভুল দিয়ে নয়, বরং ভুল থেকে ফিরে আসার আন্তরিকতা দিয়েও।
তাওবার গুরুত্ব বোঝাতে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘আল্লাহ রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন, যাতে দিনের গুনাহগার তাওবা করতে পারে; আর দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন, যাতে রাতের গুনাহগার তাওবা করতে পারে। এ সুযোগ চলতে থাকবে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৭৫৯)। অর্থাৎ, কিয়ামতের বড় নিদর্শন প্রকাশের আগে পর্যন্ত তাওবার সুযোগ অব্যাহত থাকবে।
তবে তাওবা শুধু মুখের কিছু শব্দ নয়। আলেমরা বলেছেন, কবুলযোগ্য তাওবার জন্য চারটি বিষয় অপরিহার্য: গুনাহ থেকে তাৎক্ষণিক বিরত হওয়া, আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া, ভবিষ্যতে ওই পাপে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা এবং মানুষের হক নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষমা চাওয়া। (ইমাম নববী, রিয়াদুস সালিহীন; ইমাম গাজ্জালী, ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন)
আজকের সমাজে অনেক মানুষ অতীতের ভুলের কারণে হতাশায় ভোগেন। কেউ মনে করেন, এত পাপ করার পর আর ক্ষমা পাওয়া সম্ভব নয়। অথচ এই হতাশাই শয়তানের অন্যতম কৌশল। ইসলাম মানুষকে নিরাশা নয়, বরং সংশোধন, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর অসীম রহমতের প্রতি আশাবাদী হতে শেখায়।
তাই জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাওবার সুযোগকে মূল্য দেওয়া উচিত। কারণ তাওবা শুধু গুনাহ মাফের পথ নয়, এটি মানুষকে নতুনভাবে বাঁচার, চরিত্র গঠনের এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। যতক্ষণ জীবন আছে, ততক্ষণ আল্লাহর দিকে ফিরে আসার দরজাও খোলা।




