যে স্বভাব মানুষকে আল্লাহর ঘৃণার পাত্র বানায়

প্রতীকী ছবি
মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা, আর সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য তাঁর অসন্তুষ্টি ও ঘৃণার পাত্র হওয়া। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা কিছু মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা যেমন ঘোষণা করেছেন, তেমনি কিছু স্বভাব ও কর্মের কারণে কিছু মানুষকে তিনি অপছন্দ ও ঘৃণা করেন বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো সেসব বৈশিষ্ট্য থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
আবূ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কোনো বস্তু থাকবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীল ও কটুভাষী ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২০০২)। এ হাদিস প্রমাণ করে, ভাষা ও চরিত্র শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অশ্লীল ও কটুভাষী
যে ব্যক্তি গালিগালাজ, অশ্লীল কথা ও অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করে, সে আল্লাহর অপছন্দের পাত্র। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন কখনো গালিদাতা, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী বা কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তাকারী হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৭৭)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পারিবারিক জীবনে, সর্বত্র ভাষার শালীনতা একজন মুমিনের পরিচয় বহন করে।
অহংকারী
মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী ও আত্মগর্বী কাউকে ভালোবাসেন না।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৩৬)। অহংকার মানুষকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে এবং অন্যকে তুচ্ছ করতে শেখায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) অহংকারের সংজ্ঞা দিয়েছেন, ‘সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (মুসলিম, হাদিস: ৯১)।
সীমালঙ্ঘনকারী
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯০)। সীমালঙ্ঘন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং কথাবার্তা, আচরণ, ক্ষমতার ব্যবহার এবং পারিবারিক সম্পর্কেও হতে পারে। ইসলাম সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্য ও ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দেয়।
অপচয়কারী
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৪১)। খাদ্য, অর্থ, সময় কিংবা সম্পদ, সবকিছুর ক্ষেত্রেই অপচয় ইসলামে নিরুৎসাহিত। অপচয় ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
বিশ্বাসঘাতক ও খিয়ানতকারী
আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসঘাতক, পাপিষ্ঠ কাউকে ভালোবাসেন না।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১০৭)। আমানতের খিয়ানত, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ করা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।
আল্লাহর ঘৃণার কারণগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এগুলোর অধিকাংশই মানুষের চরিত্র ও আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। অশ্লীল ভাষা, অহংকার, সীমালঙ্ঘন, অপচয় ও বিশ্বাসঘাতকতা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। বিপরীতে, উত্তম চরিত্র, নম্রতা, সংযম ও বিশ্বস্ততা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সুগম করে।
তাই একজন মুমিনের প্রতিদিন আত্মসমালোচনা করা উচিত, আমার কথা, আচরণ ও চরিত্র কি আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হচ্ছে, নাকি তাঁর ঘৃণার? কারণ কিয়ামতের দিন মানুষের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী আমলগুলোর একটি হবে সুন্দর চরিত্র। যে ব্যক্তি নিজের ভাষা ও আচরণকে ইসলামের শিক্ষায় গড়ে তুলতে পারে, সে দুনিয়ায় মানুষের ভালোবাসা এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশা করতে পারে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
saifpas352@gmail.com




