সৃষ্টির প্রতি দয়ার অনন্য প্রাপ্তি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দয়া, মমতা ও সহানুভূতি মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। ইসলাম মানুষের সঙ্গে সদাচরণ, দুর্বলদের প্রতি সহমর্মিতা এবং সৃষ্টির প্রতি দয়ার শিক্ষা দিয়েছে। আল্লাহ তাআলার অন্যতম গুণ হলো তিনি -রহমান ও রহিম অর্থাৎ তিনি পরম দয়ালু ও অতি দয়াশীল। যে ব্যক্তি আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে, মহান আল্লাহ তাআলাও তার প্রতি রহমতের দরজা খুলে দেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যারা দয়া করে, দয়াময় আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন। তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি
দয়া করো, আসমানে
যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’
(তিরমিজি, হাদিস:
১৯২৪; আবু
দাউদ, হাদিস:
৪৯৪১)
এই হাদিসের শিক্ষা হচ্ছে- মানুষের প্রতি দয়া শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং এটি আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম। একজন মুসলিমের হৃদয় হবে কোমল, যেখানে থাকবে মানুষের কষ্ট অনুভব করার ক্ষমতা এবং সাহায্যের মানসিকতা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিশেষ গুণ হিসেবে দয়া ও কোমলতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছেন। আপনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, মানুষের হৃদয় জয় করার অন্যতম মাধ্যম হলো দয়া ও ভালো আচরণ। কঠোরতা মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়, আর দয়া মানুষকে কাছে টেনে নেয়।
ইসলামে দয়া শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সব সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, যে ব্যক্তি একটি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল, আল্লাহ তার এই কাজকে কবুল করে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। (বুখারি, হাদিস: ২৩৬৩; মুসলিম, হাদিস: ২২৪৪)
অন্যদিকে একটি বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার কারণে এক নারী শাস্তির উপযুক্ত হয়েছে বলেও হাদিসে এসেছে। (বুখারি, হাদিস: ৩৩১৮; মুসলিম, হাদিস: ২৬১৯)
এ থেকে স্পষ্ট হয়, আল্লাহর কাছে দয়ার মূল্য অনেক বেশি। ছোট একটি ভালো কাজও মানুষের মুক্তির কারণ হতে পারে।
দয়া মানুষের চরিত্রকে সুন্দর করে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। একজন ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, অসুস্থের খোঁজ নেওয়া, দুর্বলকে সহযোগিতা করা, ছোটদের স্নেহ করা এবং ক্ষমার মনোভাব রাখা সবই দয়ার অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন দয়ার সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি এতিম, গরিব, অসহায় ও এমনকি বিরোধীদের প্রতিও দয়া ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে স্বার্থপরতা ও কঠোরতা বেড়ে যাচ্ছে। পারিবারিক, সামাজিক ও অনলাইন আচরণেও অনেক সময় সহমর্মিতার অভাব দেখা যায়। অথচ ইসলাম শেখায়, মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করলে তা ফিরে আসে আল্লাহর বিশেষ রহমত হিসেবে।
দয়া মানুষের মর্যাদা বাড়ায়, হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ সহজ করে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নিজের আচরণে দয়া, ক্ষমা ও সহানুভূতির চর্চা করা। কারণ অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শনকারীদের জন্যই রয়েছে আল্লাহর বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহ।
লেখক: শিক্ষিকা, এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুুল, নারায়ণগঞ্জ।




