পাকা চুল-দাড়ি সম্পর্কে নবীজির সুসংবাদ

প্রতীকী ছবি
বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের চুল ও দাড়ি পেকে যাওয়া স্বাভাবিক। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি শুধু বার্ধক্যের চিহ্ন নয়, বরং একজন মুমিনের জন্য সওয়াব অর্জনেরও উপলক্ষ। তাই পাকা চুল-দাড়িকে অবহেলা বা লজ্জার বিষয় মনে না করে আল্লাহর অনুগ্রহের প্রত্যাশা করা উচিত। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দিয়েছেন। হাদিস বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَنْتِفُوا الشَّيْبَ، مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَشِيبُ شَيْبَةً فِي الْإِسْلَامِ - قَالَ عَنْ سُفْيَانَ: إِلَّا كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَقَالَ فِي حَدِيثِ يَحْيَى - إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهَا حَسَنَةً، وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً
আমর ইবনু শু‘আইব (রহ.) তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা পাকা চুল-দাড়ি উপড়ে ফেলো না। কেননা কোনো মুসলিম ইসলামের মধ্যে থেকে চুল পাকালে, তা কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে। আর তার প্রতিটি পাকা চুলের বিনিময়ে আল্লাহ তাকে একটি নেকি দান করবেন এবং একটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪২০২; নাসাঈ, হাদিস: ৫০৬৮)
এ হাদিসে পাকা চুল-দাড়ি উপড়ে ফেলার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে এবং এর বিনিময়ে পরকালীন পুরস্কারের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। একজন মুমিনের জীবনে বার্ধক্যও আল্লাহর আনুগত্যে অতিবাহিত সময়ের সাক্ষ্য বহন করতে পারে। পাকা চুলের প্রতিটি রেখা যেন তাকে জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব, আখিরাতের প্রস্তুতি এবং নেক আমলে অবিচল থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই পাকা চুল-দাড়ি নিয়ে সংকোচ না করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। বয়সের ভারে শরীর দুর্বল হলেও ঈমান, আমল ও উত্তম চরিত্রে যেন ভাটা না পড়ে। কারণ, মুমিনের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক তারুণ্যে নয়, বরং ঈমানের দীপ্তি ও নেক আমলের মধ্যেই নিহিত।



