মানুষের পাশে দাঁড়ান, আল্লাহ আপনার পাশে থাকবেন

প্রতীকী ছবি
ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের ধর্ম নয়; বরং মানবকল্যাণ, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য জীবনব্যবস্থা। একজন মুসলমানের ঈমানের পূর্ণতা তখনই প্রকাশ পায়, যখন সে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি অন্যের দুঃখ-কষ্টও অনুভব করে। এ কারণেই কোরআন ও হাদিসে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন,
مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا، نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ، يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا، سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ
অর্থাৎ, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনের তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য সহজতা সৃষ্টি করবে, আল্লাহ তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সহজতা সৃষ্টি করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আর বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহও ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।” (মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)
এই হাদিসে মানবসেবার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা। আজকের সমাজে অনেক মানুষ আর্থিক সংকট, অসুস্থতা, ঋণের বোঝা কিংবা পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত। একজন মুসলমানের দায়িত্ব হলো সাধ্যানুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানো। কারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।
দ্বিতীয়ত, অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য সহজতা সৃষ্টি করা। ইসলামে ঋণগ্রস্ত বা বিপদে পড়া মানুষের প্রতি সহানুভূতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাউকে সময় দেওয়া, আর্থিক সহযোগিতা করা বা তার সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এমনকি একটি আন্তরিক পরামর্শও কারও জীবনে স্বস্তির কারণ হতে পারে।
তৃতীয়ত, অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের ভুল-ত্রুটি প্রকাশ ও প্রচার করা যেন একটি সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। অথচ ইসলাম মানুষকে অপমানিত করা নয়, বরং সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার শিক্ষা দেয়। যে ব্যক্তি অন্যের সম্মান রক্ষা করে, আল্লাহও তার সম্মান রক্ষা করেন।
এই হাদিসের শেষ অংশটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।” এটি একজন মুমিনের জন্য বিরাট সুসংবাদ। মানুষ যখন অন্যের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে, তখন সে একা থাকে না; বরং আল্লাহর বিশেষ সাহায্য ও অনুগ্রহ তার সঙ্গী হয়।
তাই আমাদের উচিত আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে এসে পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মনে রাখতে হবে, কোনো মানুষের চোখের অশ্রু মুছে দেওয়া, তার দুশ্চিন্তা কমানো কিংবা তার সম্মান রক্ষা করা কখনোই ছোট কাজ নয়। বরং এসব কাজই আখিরাতে মুক্তি ও আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম কারণ হতে পারে। মানবসেবার মধ্য দিয়েই একজন মুসলমান প্রকৃত অর্থে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শের অনুসারী হয়ে উঠতে পারে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক




