সুনসান নীরবতায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চারপাশ জুড়ে আজ কেবলই নিস্তব্ধতা। ছবি: আগামীর সময়
কয়েক বছর আগেও এই দিনটিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুখরিত থাকত কালো ব্যাজ পরা মানুষের ঢলে। চারপাশে শোনা যেত শোক সংগীত আর মাইকের আওয়াজ। রাস্তার মোড়ে মোড়ে থাকত খিচুড়ি বিতরণের ধুম।
কিন্তু আজ ১৫ আগস্টের সেই চেনা ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চারপাশ জুড়ে আজ শুধুই নিস্তব্ধতা।
আজ শনিবার সকালে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ১০ তলা ভবনটির মূল ফটকটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সহিংসতার ক্ষতচিহ্ন এখনো স্পষ্ট বহন করছে বহুতল এই ভবনের দেয়ালগুলো। অন্যান্য বছর এই দিনে মোনাজাত বা তোরণ সাজানোর যে তোড়জোড় দেখা যেত, এবার তার ছিটেফোঁটাও নেই। কোনো নেতাকর্মীর আনাগোনা চোখে পড়েনি সেখানে।
কার্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে গাড়ি ও পথচারীদের চলাচল অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কিংবা হঠাৎ ঝটিকা মিছিল এড়াতে পুরো পল্টন, গুলিস্তান ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মূল ভবনের সামনে ও আশপাশের মোড়ে পুলিশ এবং র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত দেশ ছাড়ার পর ভবনটিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই এই কার্যালয়টি পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে পড়ে আছে। বিশেষ করে ১৫ আগস্টের দিনটিতে যেখানে প্রতিবছর মানুষে মানুষে ঠাঁই থাকত না, এবার চিত্র পুরোটাই বিপরীত।
স্থানীয় চা বিক্রেতা ওলি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, ‘আগে এই দিনে রাস্তায় হাঁটার জায়গা থাকত না। মাইকে দিনভর শোক দিবসের গান বাজত। এখন একদম ফাঁকা, শুধুই পুলিশ আর সাংবাদিক ছাড়া কাউকে দেখা যাচ্ছে না।’
২০২৫ সালের ১২ মে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই বর্তমানে কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে রয়েছেন। এতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় ১৫ আগস্ট কেন্দ্র করে সশরীরে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি তাদের।
এদিকে, এদিন সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা অর্ণব দাস নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম বলেছেন, আটক ব্যক্তির নাম অর্ণব দাস। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে।








