দিলারা চৌধুরী
উল্টো পথে হাঁটছে সরকার

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এবি পার্টির আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী
সংবিধান সংস্কার পরিষদের বদলে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করার মাধ্যমে সরকার উল্টো পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ : প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। সভার আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
দেশে বাক্স্বাধীনতা হরণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে সভায় আশঙ্কা প্রকাশ করেন দিলারা চৌধুরী। এ সময় জামায়াতের সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সম্প্রতি ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলছিলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ওই বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দিচ্ছেন।’
বিরোধী দল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘কেবল পাঁচ বছর পর ক্ষমতায় আসার অপেক্ষায় থেকে দায়সারা বিরোধিতা করা ভুল সিদ্ধান্ত হবে।’
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার।
সভায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, ‘জুলাই সনদের কথা বললেই সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জনগণ এই সনদ বোঝে না। অথচ জনগণ বিচার ও সংস্কার চায়। সরকার চাইলেও কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ারের অনুমতি দিতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘অতীতের ক্রসফায়ার ও গুমের ঘটনা দেশের মানুষকে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি।’ এ সময় জুলাই গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা অতীতের রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।’
সভাপতির বক্তব্যে মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ‘কোন ভাষায় সমালোচনা করলে কিংবা কী ধরনের কর্মসূচি দিলে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হবেন না, গালাগালি করবেন না, মারতে উদ্যত হবেন না কিংবা ক্রসফায়ারে দেওয়ার চিন্তা করবেন না, তা আমাদের জানা নেই। আবার আমাদের প্রতিবাদ যেন কুসুম-কুসুম বিরোধিতা মনে না হয়, কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে আমাদের ভূমিকা ও রাজনৈতিক অবস্থানও যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। এমন ভাষা ও কর্মসূচি কারও জানা থাকলে আমাদের জানাবেন।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় অস্বীকার করার পরিণতিতে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকারও ইতিহাসে জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খানের মতো নেতিবাচক চরিত্রে পরিণত হতে পারে। এবার আগে সনদ তৈরি হবে, তারপর গণঅভ্যুত্থান হবে, আগামী গণঅভ্যুত্থান সেই বাস্তবতার ভিত্তিতেই গড়ে উঠবে।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন— ভয়েস অব রিফর্মের সংগঠক মাশরুর ফাহিম, মানবাধিকারকর্মী ও কলামিস্ট আমাতুল্লাহ রুবী, এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবি পার্টির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন।



