আগামীর সময়

তাকাইচির নেতৃত্ব জাপান-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব গভীর করবে: তারেক রহমান

তাকাইচির নেতৃত্ব জাপান-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব গভীর করবে: তারেক রহমান

সংগৃহীত ছবি

জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি তাকাইচি ও তার দলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, এ ফল গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিতামূলক নেতৃত্বের প্রতি জাপানি জনগণের আস্থার প্রতিফলন। জাপান আবারও দেখিয়েছে যে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন কীভাবে স্থিতিশীলতা, দিকনির্দেশনার স্বচ্ছতা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের নতুন আস্থা তৈরি করতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যখন তার নিজস্ব জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন জাপানের এই মুহূর্তটি সমস্ত গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। যখন নাগরিকদের স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়, তখন ফলাফল রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নির্বিশেষে জাতিকে শক্তিশালী করে। অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অগ্রগতির ভিত্তি নাগরিকদের তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে এবং শাসনের বৈধতা নিশ্চিত করার ক্ষমতা প্রদান করে।

তারেক রহমান বলেন, আমি আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির নেতৃত্ব জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে আরও গভীর করবে এবং এশিয়া জুড়ে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অবদান রাখবে।

জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) গতকাল অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এলডিপি। এর ফলে ৬৮ শতাংশ ভোটে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন সানায়ে তাকাইচি।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, তাকাইচির দল এলডিপির নেতৃত্বাধীন জোট প্রতিনিধি পরিষদের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ৩৫২টি আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু এলডিপিই পেয়েছে ৩১৬টি আসন, যা মোট আসনের প্রায় ৬৮ শতাংশ।

অপরদিকে যুদ্ধ পরবর্তী জাপানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো একক দল প্রতিনিধি পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল। জাপানের বিভিন্ন গণমাধ্যম এই ফলাফলকে ঐতিহাসিক বিজয় বলে অভিহিত করেছে। অথচ ২০২৪ সালে এলডিপি সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল। এরপর তাকাইচি গত অক্টোবরে লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্ব গ্রহণ করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তিনি পদত্যাগ করবেন।

ধারণা করা হচ্ছে তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে। এখন তাকাইচির সামনে চ্যালেঞ্জ হলো জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মোকাবিলা করা, জাপানের স্থবির অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং মন্থর প্রবৃদ্ধিতে গতি আনা। ব্রিটেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের বড় ভক্ত তাকাইচি সবসময়ই নিজের দেশের ‘আয়রন লেডি’ হতে চেয়েছেন। থ্যাচারের মতোই তিনিও একজন কট্টর রক্ষণশীল। তিনি সমলিঙ্গের বিয়ের বিরোধিতা করেন সেইসাথে রাজপরিবারে নারীদের উত্তরাধিকার সূত্রে সিংহাসনে বসার বিরোধীও তিনি।

    শেয়ার করুন: