সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের খুঁজতে ছাত্রদলের তদন্ত কমিটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১০ সংবাদকর্মীর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ছাত্রদল।
কমিটির সদস্যরা হলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি জহির রায়হান আহমেদ, এ বি এম ইজাজুল কবির রুয়েল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন শাওন। আজ শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি গঠনের এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘গতকাল একটি কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই অভিযোগের তদন্তের জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সংসদ বরাবর লিখিত আকারে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে মারধরের শিকার হোন সাংবাদিকরা। হামলায় ডুজার সভাপতি ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মানজুর হোছাঈন মাহি, সাধারণ সম্পাদক ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি লিটন ইসলাম, ডেইলি অবজারভারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নাইমুর রহমান ইমন, দেশ রূপান্তরের খালিদ হাসান, ঢাকা ট্রিবিউনের সামশুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, রাইজিংবিডির সৌরভ ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খানসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন সাংবাদিক ।
এদিকে এক ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেছেন, শাহবাগে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সাংবাদিক সমিতির ভূমিকা ছিল অসামান্য। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে আর কোনো সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হবেন না।

